বন্ধুর চশমা পরলেই মাথায় তীব্র যন্ত্রণা? অজান্তেই চোখের যে মারাত্মক ক্ষতি করছেন না তো!

বন্ধুদের মধ্যে বা সহকর্মীদের সঙ্গে চশমা বদলে পরা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। জরুরি প্রয়োজনে বা সাময়িক স্বস্তির জন্য অনেকেই অন্যের চশমা চোখে দিয়ে থাকেন। কিন্তু চশমা জিনিসটি কেবল কোনো সাধারণ ফ্যাশন অ্যাকসেসরি নয়, এটি একজন ব্যক্তির চোখের নির্দিষ্ট পাওয়ার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি দৃষ্টিসংশোধনী উপকরণ। যতই দুই জনের চোখের পাওয়ার এক হোক না কেন, অন্যের চশমা ব্যবহার করলে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিউপিলারি ডিসট্যান্স ও অপটিক্যাল সেন্টারের গড়মিল
চশমা তৈরির সময় কেবল চোখের পাওয়ারই প্রধান বিষয় নয়, এর পাশাপাশি ‘পিউপিলারি ডিসট্যান্স’ বা দুই চোখের মণির মধ্যকার দূরত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মানুষের মুখের সুনির্দিষ্ট গড়ন ও চোখের অবস্থান অনুযায়ী লেন্সের অপটিক্যাল সেন্টার আলাদা জায়গায় বসানো হয়। ফলে বন্ধুর চশমা চোখে দিলেই তার কাচের অপটিক্যাল সেন্টার নিজের চোখের মণির সঙ্গে পুরোপুরি নাও মিলতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা অনুযায়ী, এই অপটিক্যাল সেন্টার ও চোখের মণির অবস্থানের মধ্যে সামান্য গড়মিল থাকলেই লেন্সে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রিজম্যাটিক এফেক্ট তৈরি হতে পারে। এর ফলে চোখে ক্লান্তি, মারাত্মক মাথাব্যথা, চোখে অতিরিক্ত চাপ, ঝাপসা দেখা বা কখনও ‘ডাবল ভিশন’ বা দ্বি-দর্শন-এর মতো বড় সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অ্যাস্টিগম্যাটিজম ও সিলিন্ড্রিক্যাল পাওয়ারের ফারাক
চোখের স্ফেরিক্যাল পাওয়ার বা মূল পাওয়ার একই হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই সূক্ষ্ম সিলিন্ড্রিক্যাল পাওয়ার বা অ্যাস্টিগম্যাটিজমের ক্ষেত্রে বেশ তফাত থেকে যায়। প্রেসক্রিপশনে থাকা সেই অ্যাক্সিস বা কোণের সামান্য গড়মিল হলেই অন্যের চশমা পরে চারপাশের লেখা বা যেকোনো বস্তু ঝাপসা কিংবা বিকৃত ঠেকতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এই ধরনের বেঠিক চশমা পরে কাজ চালিয়ে গেলে চোখের পেশির ওপর প্রবল চাপ পড়ে এবং দৃষ্টিজনিত অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।

সংক্রমণ ও পরিচ্ছন্নতার ঝুঁকি
শারীরিক মাপ কিংবা পাওয়ার ছাড়াও অন্যের চশমা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা এবং হাইজিনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠার মতো সমস্যা থাকে, তবে ব্যক্তিগত এই জিনিসপত্রের মাধ্যমে চোখের মারাত্মক জীবাণু অন্যের চোখেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। যদিও অ্যালার্জিজনিত কনজাংটিভাইটিস সংক্রামক নয়, তবুও চোখের যেকোনো ধরনের সংক্রমণ এড়াতে চশমা শেয়ার না করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ফ্রেমের ফিটিং ও অন্যান্য সমস্যা
মুখের মাপ অনুযায়ী চশমার ফ্রেমের সাইজ ঠিকঠাক না বসলে নাক ও কানের পিছনে মারাত্মক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। একটু ঢিলেঢালা ফ্রেম হলে চশমা বারবার বারবার নিচের দিকে নেমে যায়, আবার অতিরিক্ত টাইট ফ্রেম নাক বা কানের পিছনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাছাড়া অন্য কারও মুখের মাপের ফ্রেম আপনার মুখের গড়নে কোনোভাবেই পুরোপুরি আরামদায়ক হতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, জরুরি কাজে কিংবা বই পড়ার তাগিদে কিছু সময়ের জন্য অন্যের চশমা ব্যবহারের পর যদি চোখে ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে সেই চশমা খুলে ফেলা উচিত। তাই দীর্ঘ সময় বা নিয়মিত ব্যবহারের জন্য অন্যের চশমার ওপর ভরসা না করে নিজের চোখের সঠিক প্রেসক্রিপশন ও নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী তৈরি চশমা ব্যবহার করাই সর্বোত্তম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *