বিয়ের কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার নববধূর পচাগলা দেহ! ফ্রিজের মধ্যে রাখা কাটা মাথা, গুয়াহাটির এই কাণ্ডে শিউরে উঠবেন

বিয়ের বয়স মোটে কয়েক মাস। নতুন সংসার গুছিয়ে নেওয়ার সেই সুন্দর দিনগুলোর মধ্যেই ঘটে গেল এক হাড়হিম করা নৃশংস হত্যাকাণ্ড। গুয়াহাটির একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি এক নববধূর পচাগলা ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, মৃত ওই তরুণীর ধড় থেকে মাথা সম্পূর্ণ আলাদা করা ছিল এবং সেই কাটা মাথাটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ঘরের ফ্রিজের ভেতরে থাকা একটি পলিথিন ব্যাগের মধ্যে। এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত ওই যুবতীর নাম রিয়া তালুকদার। ঘটনার পর থেকেই তাঁর স্বামী পলাতক ছিলেন এবং তাঁর কোনো খোঁজ মিলছিল না। তবে রবিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত স্বামী নিজেই থানায় এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই নৃশংসতার পেছনের আসল কারণ জানতে লাগাতার জেরা চালাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুয়াহাটির ওই ফ্ল্যাটে এই দম্পতি গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া থাক গত শুক্রবারের পর থেকে কাউকেই ফ্ল্যাটের বাইরে বের হতে দেখেননি প্রতিবেশীরা। এমনকি দু’জনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) হঠাত্ই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশীদের মনে চরম সন্দেহ দানা বাঁধে। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় খবর দেন।

খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় ফ্ল্যাটের মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে। এরপর পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই এক বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হয়। ঘরের মেঝেতে পড়ে রয়েছে রিয়ার ক্ষতবিক্ষত ও পচতে শুরু করা দেহ। আরও দেখা যায়, তাঁর হাতের আঙুলগুলো অর্ধেক কাটা এবং গলা থেকে মাথা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন! এর পরই পুরো ঘরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে রান্নাঘরের ফ্রিজ খুলতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠে। ফ্রিজের একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল যুবতীর কাটা মাথাটি।

পুলিশ তৎক্ষণাৎ ওই খণ্ডবিখণ্ড দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতেই সে নিজে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

কিন্তু ঠিক কী কারণে নিজের স্ত্রীকে এত নৃশংস ও পৈশাচিক কায়দায় খুন করল ওই ব্যক্তি? দম্পতির মধ্যে কি কোনো পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহ চলছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটন করতে এবং অভিযুক্তের দেওয়া বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ জোরকদমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *