উইল করে সব সম্পত্তি ছেলেকে দিয়ে গেছেন বাবা-মা? বঞ্চিত মেয়েরা কি আইনি লড়াইতে পাবেন সমান অধিকার?

ভাইবোনের মধ্যে সুসম্পর্ক নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান এবং চিরন্তন কারণ হলো সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ। বিশেষ করে বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন না করায় তাঁদের প্রয়াণের পর এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মা তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি একমাত্র ছেলেকে দিয়ে যান, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে—মেয়ের কি আদৌ কোনো আইনি অধিকার থাকে? আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরটি নির্ভর করে সম্পত্তিটি নিছক ‘স্ব-অর্জিত’ নাকি ‘পৈতৃক’—তার ওপর।
স্ব-অর্জিত সম্পত্তি ও মেয়েদের অধিকার
বাবা-মা নিজেদের উপার্জনে কেনা সম্পত্তি যাঁকে খুশি দান করতে পারেন। যদি রেজিস্ট্রি করা ‘গিফট ডিড’ (Gift Deed) বা ‘উইল’ (Will)-এর মাধ্যমে তাঁরা সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলেকে দিয়ে যান, তবে মেয়ে সন্তান চাইলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে নিজের দাবি জানাতে পারেন না। তবে এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো ধরনের প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা বাবা-মায়ের মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই দানপত্র বা উইলকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার আইনি অধিকার মেয়ের রয়েছে। অন্যদিকে, বাবা-মা যদি কোনো উইল না করেই মারা যান, তবে ‘হিন্দু উত্তরাধিকার আইন’ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে ও কন্যা—উভয়েই সম্পত্তির সমান অংশের অধিকারী হবেন।
পৈতৃক সম্পত্তি ও আইনের সুরক্ষা
পৈতৃক সম্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি বিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৫ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার (সংশোধনী) আইন অনুযায়ী, পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলের মতোই মেয়েরও সমান অংশ পাওয়ার জন্মগত অধিকার রয়েছে। মেয়ে বিবাহিত হলেও এই আইনি অধিকারে বিন্দুমাত্র আঁচ পড়ে না। বাবা-মা চাইলেও পৈতৃক সম্পত্তি থেকে মেয়েকে বঞ্চিত করে তা একতরফাভাবে শুধুমাত্র ছেলের নামে হস্তান্তর করতে পারেন না।
আইনজীবী রবি কুমার ভাধ্যায়ার মতে, গোপনে বা বেআইনিভাবে ভাইয়ের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি হয়ে গেলেই তা শেষ কথা হয়ে যায় না। বঞ্চিত হলে বা সম্পত্তি হস্তান্তরে কোনো বেআইনি প্রক্রিয়া থাকলে কন্যারা সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিজেদের আইনি অধিকার আদায় করে নিতে পারেন।