‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার বাস্তবরূপ! একা হাতে নদী সাফ করে সোজা নেদারল্যান্ডস থেকে ডাক পেলেন কোন ভারতীয় তরুণ?

‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার রিল লাইফ চরিত্র ফারহানের ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি দেখে বিশ্ববিখ্যাত ফটোগ্রাফার আন্দ্রে ইস্তোভানের কাজের সুযোগ পাওয়ার সেই কাল্পনিক ঘটনাই যেন এবার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হলো মধ্যপ্রদেশের এক সাধারণ যুবকের জীবনে। নেটপাড়ায় যিনি ‘বিট্টু তাবাহি’ (Bittu Tabahi) নামে পরিচিত, সেই কুড়ি বছরের তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরীর অসামান্য কর্মপ্রচেষ্টা এবার তাঁকে পৌঁছে দিল আন্তর্জাতিক আঙিনায়। নিজের এলাকার ময়লা আবর্জনায় ভরপুর একটি নদী একা হাতে পরিষ্কার করে তাক লাগানোর পর, এবার সরাসরি নেদারল্যান্ডসের নামজাদা পরিবেশ সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’ (The Ocean Cleanup)-এর পক্ষ থেকে কাজের প্রস্তাব পেলেন এই ভারতীয় তরুণ।
একা হাতে নদী পরিষ্কারের লড়াই
দেশের অন্যান্য বহু নদীর মতোই একসময় আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের আজনার নদী ও তার তীরবর্তী অঞ্চল। প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল আর শ্যাওলার স্তূপে নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের মুখের দিকে তাকিয়ে বসে না থেকে নিজেই নদীর পুনর্জীবনে হাত লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন বিট্টু। নিজের পকেট থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করে একা হাতে নদীটিকে সম্পূর্ণ আবর্জনামুক্ত করে তোলেন তিনি।
এরপর নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে নদীটির আগের ও পরের রূপান্তরের অবিশ্বাস্য ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতেই তা রাতারাতি ঝড় তোলে ইন্টারনেটে। চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রাও তাঁর এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্তব্য করেছিলেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক পাওয়ার উদ্দেশ্যেও যদি কেউ এমন মহৎ ও ইতিবাচক কাজ করে থাকেন, তবে তাতে বিন্দুমাত্র আপত্তি থাকার কথা নয়।
সীমানা ছাড়িয়ে সোজা আন্তর্জাতিক মঞ্চে
মধ্যপ্রদেশের এই তরুণের একক লড়াই ও সততার খ্যাতি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্বমঞ্চে। বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্র ও নদী পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত অত্যন্ত প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য ওশান ক্লিনআপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বয়ান স্ল্যাট (Boyan Slat) সরাসরি বিট্টুর কাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি নিজের সরকারি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে তরুণকে সরাসরি বার্তা দিয়ে লেখেন—”Come work for us” (আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চলে এসো)।
বিশ্বখ্যাত পরিবেশপ্রেমীর এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় নেটদুনিয়ায়। যদিও এটি এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র নয় এবং পদ বা বেতনের বিশদ বিবরণ সামনে আসেনি, তবুও নেটিজেনদের মতে, এক তরুণের নিঃস্বার্থ নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম আজ তাঁর সামনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলভাগ সাফাই অভিযানে অংশ নেওয়ার ঐতিহাসিক দুয়ার খুলে দিয়েছে।