দিল্লিতে কাজের সন্ধানে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! কারখানার ভিতর থেকে ১৯ বছরের তরুণের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার

কাজের সন্ধানে রাজধানী দিল্লিতে আসার মাত্র দশ দিনের মাথায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন এক তরুণ। রবিবার রাতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ থানার অন্তর্গত চৌহান বাঙ্গার এলাকার একটি কারখানার ভেতর থেকে ১৯ বছর বয়সি এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই তরুণের নাম সাহিল, যিনি মূলত উত্তরপ্রদেশের আমরোহা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে চৌহান বাঙ্গার এলাকার ১৭/৪ নম্বর গলির একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত ওই কারখানা থেকে এক তরুণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর আসে। এই খবর পাওয়া মাত্রই জাফরাবাদ থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় সাহিলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উত্তর-পূর্ব জেলার ডিসিপি রাহুল আলওয়াল এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ১৯ বছরের সাহিলকে তাঁরই এক সহকর্মী যুবক ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে বলে প্রাথমিক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জাফরাবাদ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩(১) ধারায় একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের সন্ধানে বর্তমানে পুলিশের একাধিক দল জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সাহিল মাত্র ১০ দিন আগেই জীবিকার সন্ধানে দিল্লি এসেছিলেন এবং চৌহান বাঙ্গার এলাকার ওই কার্ডবোর্ডের বাক্স তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে তাঁর নিজের সহকর্মী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনের আসল সত্য উদঘাটন করতে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ কারখানার আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *