বইয়ের পাতা ছেড়ে এবার সোজা ট্রেন ও স্মার্ট ক্লাসে পড়াশোনা! তাক লাগাল বর্ধমানের এই সরকারি স্কুল!

রীতিমতো ট্রেন স্টেশন কিংবা আধুনিক কোনো কর্পোরেট অফিসের আদলে সেজে উঠেছে একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুল! স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকলেই সামনে দাঁড়িয়ে একটি নীল রঙের লম্বা এক্সপ্রেস ট্রেন। তবে একটু কাছে গেলেই ভুল ভাঙবে—এটি আসলে কোনো আসল ট্রেন নয়, বরং ট্রেনের কামরার আদলে তৈরি নজরকাড়া কিছু ক্লাসরুম। আর পাঁচটা চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের ‘শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ’ যেন আজ শিক্ষার এক নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে।

জীবন্ত পাঠ্যপুস্তক ও প্রযুক্তির ম্যাজিক: এই স্কুলের ক্লাসরুমে ঢুকলে প্রথাগত চক-ডাস্টার বা কালো বোর্ডের দেখা মিলবে না। তার বদলে রয়েছে হোয়াইট বোর্ড, ডিজিটাল স্ক্রিন এবং অত্যাধুনিক প্রজেক্টর। বইয়ের পাতায় শুধু সৌরজগতের ছবি দেখে নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে চোখের সামনেই সূর্য, বুধ, বৃহস্পতি, পৃথিবী ও চাঁদের মতো নক্ষত্র-গ্রহ-উপগ্রহগুলিকে জীবন্ত দেখছে খুদেরা। মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে সমস্ত পাঠ্য বিষয় এখন তাদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরীর নিরলস প্রচেষ্টায় এবং জাতীয় ICT পুরস্কারপ্রাপ্ত চিন্তাভাবনার হাত ধরেই আজ এই সরকারি স্কুলটি রূপ নিয়েছে এক স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গনে।

পড়ুয়ারা নিজেরাই হয়ে উঠছে শিক্ষক: এই স্কুলের সবচেয়ে বড় চমক হল এর অনন্য পঠনপাঠন পদ্ধতি। ক্লাসে কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে পড়াশোনা থেমে থাকে না। প্রশিক্ষিত পড়ুয়ারা নিজেরাই অন্য ক্লাসে গিয়ে সেই বিষয়ে ছোটদের বুঝিয়ে দেয়। এর ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি খুদেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং মঞ্চে কথা বলার জড়তা কেটে যাচ্ছে। এছাড়াও, গরিব পরিবারের পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে স্কুলে চালু করা হয়েছে ‘ব্রেকফাস্ট প্রজেক্ট’, যেখানে মিড-ডে মিলের আগে সকালের সুষম খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং যুগোপযোগী ভাবনার মাধ্যমে সরকারি স্কুল যে কেবল টিকে থাকতে পারে না, বরং সেরার সেরা হতে পারে—তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। অসাধারণ এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই শিক্ষক দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে ‘জাতীয় শিক্ষক সম্মান’ গ্রহণ করেছেন প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *