দেওয়ালে সাঁটানো শত শত ছবি! নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বানের পর প্রিয়জনের খোঁজে বুকফাটা আর্তনাদ!

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১০ দিন। কিন্তু এখনও স্বস্তির কোনো খবর নেই। দেশটির নুয়াকোট জেলার নেপাল সেনার মৈথিলি ক্যাম্পের এটিএম থেকে শুরু করে চারপাশের দেওয়ালে এখন কেবল নিখোঁজ মানুষদের রঙিন ও সাদা-কালো ছবি। প্রিয়জনদের জীবিত বা মৃত—যেকোনো উপায়ে খুঁজে পেতে তাঁদের পরিবারের লোকজন ছবিগুলি দেওয়ালে সাঁটিয়ে দিন-রাত আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছেন।
ভয়াবহ বিপর্যয়ের করুণ চিত্র: গত ২৬ আগস্ট নেপালের বিধ্বংসী হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। ত্রিশূলি ও ভোটেকোশি নদীর গ্রাসে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শুরু করে আস্ত বসতি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বন্যায় এখনও ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে বহু ভারতীয় নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত। রাসুয়া, নুয়োকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুরু কাদার স্তূপের নিচে ঢাকা পড়ে রয়েছে।
ছবি হাতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন স্বজনহারারা: নিখোঁজ ভাই কৃষ্ণ বাহাদুর অধিকারীকে খুঁজতে নুয়াকোটে ছুটে এসেছেন সন্তোষী অধিকারী। দক্ষিণ কোরিয়ার দুসান গ্রুপের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তা আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ। একইভাবে জুমলা থেকে ভাই কমল সিং বুধার খোঁজে এসেছেন ধনজিৎ বুধা। হাকু বেসি ত্রিশূলি-১ প্রজেক্টের টানেলের ভেতরে কাজ করার সময় নিখোঁজ হন কমল। সমস্ত রাস্তাঘাট ও সেতু ধুয়ে মুছে যাওয়ায় উদ্ধারকাজেও চরম বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে বিহারের সিওয়ান থেকে আসা রাজেশ কুমার রাম তাঁর ২২ বছরের তরুণ ছেলে সুরজকে খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সেনার তালিকা ও স্বজনদের বুকফাটা আশা: নেপালি সেনার পক্ষ থেকে নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি এবং নাম নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে। সেনা ক্যাম্পের একটি শেডের নিচে থরে থরে সাজানো রয়েছে মৃতদের নাম, অচেনা মরদেহের ছবি এবং নিখোঁজদের তালিকা। প্রিয়জনের নাম সেই তালিকায় না থাকলে এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকা নিখোঁজের সংখ্যা গোটা উপত্যকায় এক গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।