জল নেই, খাবার নেই! মৃত্যুর মুখ থেকে ১১ দিন পর অলৌকিক উপায়ে বেঁচে ফিরলেন বৃদ্ধা!

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা কাকে বলে, তা ফের একবার প্রমাণ করল প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। হিমালয়ের কোলে হড়পা বানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঠিক ১১ দিন পর, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের মতে, এ যেন একপ্রকার অলৌকিক ঘটনা।

কীভাবে আটকে পড়েছিলেন চণ্ডিকা দেবী? গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ল্যাংটাং-লিরুং পর্বতমালায় ভয়াবহ ধসের জেরে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) দেখা দেয়। সেই সর্বনাশা জলের তোড়ে নেপালের নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকার আনন্দ শ্রেষ্ঠার চারতলা বাড়িটি কাদা ও পলিকাদায় অর্ধেক দেবে যায়। সেই বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা। টানা ১১ দিন ধরে কোনো আলো ও খাবার ছাড়াই অন্ধকারের মধ্যে বেঁচে ছিলেন তিনি। এদিকে পরিবারের লোকজন তাঁর আশা ছেড়েই দিয়ে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কীভাবে উদ্ধার করা হলো? গত ৫ সেপ্টেম্বর আচমকাই সেই দেবে যাওয়া বাড়ির ভেতর থেকে অস্পষ্ট গোঙানি ও মানুষের গলার আওয়াজ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা ও টহলদারি পুলিশকর্মীরা। এরপরই নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের (APF) বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চণ্ডিকা দেবীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। জওয়ানরা তাঁকে জল দিতেই তিনি তা পান করেন এবং মৃদুস্বরে কথা বলেন।

বর্তমানে তাঁকে হেলিকপ্টারে করে ত্রিশূলীর সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। যেখানে এই প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ, সেখানে চণ্ডিকা দেবীর এই অলৌকিক বেঁচে ফেরা গোটা নেপালে নতুন করে আশার আলো জুগিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *