প্লেটে বিষ খাচ্ছেন না তো? নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের ভয়ংকর রূপ ফাঁস করলেন খোদ বিখ্যাত শেফ!

রেস্তোরাঁয় কতটা খাবার তৈরি হবে এবং তা কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে—পুরো ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাস্থ্য দফতরের অভিযানে নামী-দামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকান থেকে পচা মাংস, ছত্রাক ধরা সবজি, মেয়াদোত্তীর্ণ তেল ও নষ্ট ছানা উদ্ধারের পর এমনটাই মত জনপ্রিয় শেফ-ইনফ্লুয়েন্সার সৌগত ঘোষের। তাঁর মতে, ছোট-মাঝারি হোটেল বা রেস্তোরাঁয় কর্মীদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ না দেওয়ার কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
গত তিন দিনে রাজ্যের ২,৩৩৭টি হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানে তল্লাশি চালিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কলকাতার পার্ক স্ট্রিট থেকে শুরু করে ট্যাংরা, গড়িয়া, সোনারপুর, কামালগাজি কিংবা বনগাঁ ও বাগদা—প্রতিটি অঞ্চলেই একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের ছবি ধরা পড়েছে। কোথাও উদ্ধার হয়েছে ছত্রাক ধরা আলু ও বেবিকর্ন, আবার কোথাও মিষ্টি তৈরির ছানার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হেলেঞ্চা বাজারের একটি মিষ্টির কারখানায় ছত্রাক ধরা দই এবং ক্ষতিকর রং ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত এই অভিযানে ১৭টি দোকান ও রেস্তোরাঁ সিল করা হয়েছে, ৫টির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম ও পরিচ্ছন্নতার পরীক্ষায় পাশ করলে পরবর্তীতে ফের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ রয়েছে।
শুধু ছোট প্রতিষ্ঠানই নয়, বেশ কিছু পরিচিত ও নামী রেস্তোরাঁতেও এই অনিয়ম দেখা গিয়েছে। বিদেশ সহ দীর্ঘদিনের রান্নার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শেফ সৌগত জানান, সব দেশেই নির্দিষ্ট ফুড ইনস্পেকশন হয় এবং স্টোরেজ, খাবার সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম সব জায়গাতেই সমান। সন্ধ্যাবেলা ঠিক কত খাবার বিক্রি হবে তা আগে থেকে নিশ্চিত করা যায় না বলে কিছুটা বেশি খাবার স্টোর করতে হয় ঠিকই, কিন্তু তারও নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রেস্তোরাঁর মালিক এবং ম্যানেজমেন্টকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে এবং কর্মীদের সঠিক তালিম দিতে হবে।
দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পর পর এমন অভিযান এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে বাইরে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখা আদৌ নিরাপদ কিনা। শেফ সৌগতের মতে, সঠিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোরভাবে ফুড সেফটির নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব।