পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর আধার, প্যান ও ভোটার কার্ডের কী করা উচিত? ৯০ শতাংশ মানুষই এই নিয়ম জানেন না

পরিবারের কোনো সদস্যের প্রয়াণের পর তাঁর ফেলে যাওয়া সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে নানা আইনি প্রক্রিয়া সামলাতে হয়। কিন্তু আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রগুলি নিয়ে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে অনেকেই ধন্দ্বে থাকেন। ভারতে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই নথিগুলি অত্যন্ত আবশ্যিক। ব্যাংক লেনদেন থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা—সবক্ষেত্রেই এগুলির প্রয়োজন হয়। তবে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর এই সরকারি পরিচয়পত্রগুলির কী হয় এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোন পদক্ষেপগুলি জরুরি, জেনে নেওয়া যাক।

আধার কার্ড
দেশের নাগরিকদের অন্যতম প্রধান পরিচয়পত্র হলো আধার কার্ড। তবে মৃত্যুর পর আধার কার্ড সরাসরি সারেন্ডার বা জমা দেওয়ার কোনো আলাদা সরকারি ব্যবস্থা নেই। সাধারণত পরিবারের সদস্যরা পৌরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মৃত্যুর শংসাপত্র বা ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। যেহেতু বর্তমান সরকার জন্ম ও মৃত্যুর নথির সঙ্গে আধার ডেটাবেসের সংযোগের ব্যবস্থা করেছে, তাই মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু হওয়ার পরই সেন্ট্রাল ডেটাবেসে সেই তথ্য আপডেট হয়ে যায় এবং আধার নম্বরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর ফলে ওই কার্ডের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে না।

প্যান কার্ড
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং যেকোনো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্যান কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কারও মৃত্যুর পরপরই প্যান কার্ড সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা উচিত নয়। মৃত ব্যক্তির নামে যদি কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ বা বকেয়া আয়কর রিফান্ড বাকি থাকে, তবে সেই সমস্ত আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্যান কার্ডটি সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। সমস্ত আইনি ও আর্থিক লেনদেন মিটে যাওয়ার পর, মৃত ব্যক্তির আইনি উত্তরাধিকারীরা আয়কর বিভাগের কাছে প্যান কার্ড জমা দিতে পারেন। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়, তবুও ভবিষ্যতে যেকোনো আর্থিক জালিয়াতি এড়াতে কার্ডটি নিষ্ক্রিয় বা জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভোটার আইডি কার্ড
মৃত ব্যক্তির ভোটার কার্ডের অপব্যবহার রুখতে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকের কাছে মৃত্যুর শংসাপত্র সহ নির্দিষ্ট ‘ফর্ম ৭’ জমা দিয়ে মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া যায়।

পাসপোর্ট
পাসপোর্টের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। তাই সেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে এটি এমনিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায়। ফলে কারো মৃত্যুর পর পাসপোর্ট বাতিল করার জন্য আলাদা করে কোনো বিশেষ আবেদন করার প্রয়োজন হয় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *