গালওয়ান হামলার মাস্টারমাইন্ডকে সরিয়ে দিলেন জিনপিং! চিনের অন্দরে হঠাৎ কিসের ভয়ে কাঁপছে বেজিং?

গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় যিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে বারবার উঠে এসেছিলেন, সেই চিনা জেনারেল ঝাও জোংকিকে অবশেষে পদ থেকে সরিয়ে দিল পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘাতের সময় পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কম্যান্ডের চিফ কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন এই জোংকি। তাইওয়ানিজ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরাসরি তাঁর নির্দেশেই ভারতীয় সেনার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। ২০২০ সালের জুনের সেই সংঘাতের পর উল্টে জোংকির পদোন্নতি হলেও, সম্প্রতি পিএলএ-র সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি তাঁকে সহ মোট আট জন শীর্ষস্থানীয় সেনাকর্তাকে একসঙ্গে বরখাস্ত করেছে। গত পাঁচ দিন ধরে চলা এই লাগাতার ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বেজিংয়ের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, আজীবন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে থাকার সাংবিধানিক ক্ষমতা হাতে থাকা সত্ত্বেও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কেন নিজের দেশের সেনাকর্তা ও মন্ত্রীদের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছেন? মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন এবং সিআইএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এর নেপথ্যে রয়েছে চিনা প্রেসিডেন্টের মারাত্মক এক বিদেশি শক্তির ভয়। জিনপিংয়ের আশঙ্কা, গোটা দেশ পশ্চিমী দুনিয়ার গুপ্তচরে ভরে গিয়েছে এবং অতি গোপনীয় তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বেজিংয়ের তরফ থেকে অত্যন্ত কঠোর নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পার্টি, সরকার, আদালত, হাসপাতাল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তি তখনই উচ্চ পদে থাকতে পারবেন, যদি তাঁর স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানদের মধ্যে কেউ বিদেশে অবস্থান না করেন। পরিবারের কেউ বিদেশে থাকলেই সরকারি আমলা, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে অথবা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অতীতে যাঁদের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে চিনের ‘সফ্ট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক প্রভাব ছড়াত, আজ তাঁদের পরিবারকেই তড়িঘড়ি বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জিনপিংয়ের এই কড়া অবস্থানের জেরে আগামী দিনে চিনের অন্দরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা আরও অনেকদূর গড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *