মির্জা গালিব স্ট্রিটকাণ্ডের পরেই নড়েচড়ে বসল ঢাকা! কলকাতায় আসা বাংলাদেশিদের জন্য জারি কড়া নির্দেশিকা

মির্জা গালিব স্ট্রিটের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। কলকাতায় চিকিৎসার প্রয়োজনে বা অন্যান্য কাজে আগাম ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্য এবার কড়া নির্দেশিকা জারি করল কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন। সূত্রের খবর, এখন থেকে শহরে আসার আগে হোটেল বা লজ বুকিং করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কলকাতায় আসার আগে যে হোটেল বা গেস্ট হাউস বুক করা হচ্ছে, তার বর্তমান অবস্থা এবং পরিকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে চিকিৎসার কারণে আসা নাগরিকদের ক্ষেত্রে হোটেল থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দূরত্ব এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে।
এই আকস্মিক নির্দেশিকার নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। ওই অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে ৭ জনই ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক। বাকি দু’জন ভারতীয়র মধ্যে ছিলেন শিলিগুড়ির ৬৮ বছরের যোগ নারায়ণ অগ্রবাল এবং সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া ঝাড়খণ্ডের ১৯ বছরের রিসেপশনিস্ট সন্দীপ পাসোয়ান। শর্টসার্কিট থেকে লাগা সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বড়ো ধরণের এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পরেই শহরের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ। ইতিমধ্যেই মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তোরাঁকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সেফটির নিয়মে বড়ো ধরণের ত্রুটি থাকার কারণেই এই কড়া পদক্ষেপ। এর আগেও একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নিয়ম না মানায় এবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলি কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে দমকল। এই পরিস্থিতিতে শহরে আসা বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন।