মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারা! শনিবারই কি গ্রেফতার হতে পারেন তৃণমূল সাংসদ? তুঙ্গে জল্পনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি জাঁতাকলে পড়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলার তদন্তের স্বার্থেই আগামী শনিবার বেলা ১১টায় তাঁকে সাইবার ক্রাইম দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তলব করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় বেশ কিছু জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এর জেরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, শনিবার সাংসদ হাজিরা দিলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে কি না। যদিও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন অযোগ্য ধারা থাকলেই যে অভিযুক্তকে সরাসরি গ্রেফতার করতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই; সম্পূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করছে তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং পুলিশের সিদ্ধান্তের ওপর।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার রাতে। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে রাজ্যের কয়েকজন মুসলিম আইপিএস এবং আইএএস আধিকারিককে ব্রাত্য করে রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি। পোস্টে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা, এসটিএফের ডিজি জাভেদ শামিম এবং আইএএস আধিকারিক খলিল আহমেদের নাম উল্লেখ করে তাঁর দাবি ছিল, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের ওই অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।

মহুয়ার এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পরেই তীব্র আপত্তি জানান ডায়মন্ড হারবারের এক বাসিন্দা। অভিযোগকারীর দাবি, ওই পোস্টের মাধ্যমে সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ডায়মন্ড হারবার সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় এবং পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।

শনিবারের তলবের পর নির্দিষ্ট দিনে মহুয়া মৈত্র হাজিরা দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *