Nepal Flood Disaster: উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ল প্রলয়ের ছবি! ৬ গুণ চওড়া হয়ে গেল নদী, নেপালের ধ্বংসলীলা দেখলে শিউরে উঠবেন

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চোখের নিমেষে বদলে গেল নদীর গতিপথ। মায়াবী পাহাড়ি জনপদ পরিণত হলো কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের এক বিশাল প্রান্তরে। গত ২৬ আগস্ট সকালে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ রক ও আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ বা পাথর-বরফের ধস নেমে আসে। তার জেরে তৈরি হওয়া প্রবল জলস্রোত ও কাদামাটি-ধস নেপালের রসুয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ তছনছ করে দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই বন্যার জল ছড়িয়ে পড়ে নুয়াকোট ও ললিতপুর জেলাতেও।
উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়া ভয়াবহতা
বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কতটা মারাত্মক, তা একেবারে স্পষ্ট হয়েছে উপগ্রহচিত্র বা স্যাটেলাইট ইমেজে। ত্রিশূলী নদীর গতিপথ এবং বন্যার আগে ও পরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক জায়গায় নদী তার আগের আয়তনের কয়েক গুণ পর্যন্ত চওড়া হয়ে গিয়েছে।
নেপাল সেনার তরফেও জানানো হয়েছে, আচমকা জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় রসুয়া জেলার তিমুরে ও স্যাব্রুবেশি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিব্বত সীমান্ত থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই এলাকাগুলির বেহাল দশা নজরে এসেছে। উপগ্রহচিত্রের তথ্য অনুযায়ী:
-
তিমুরে শহর: বন্যার আগে ত্রিশূলী নদীর প্রস্থ ছিল প্রায় ৭৮ মিটার। বিপর্যয়ের পর সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫০ মিটার (চার গুণের বেশি)।
-
স্যাব্রুবেশি: এখানে নদীর প্রস্থ ছিল প্রায় ৬৫ মিটার, যা প্রবল স্রোতের পর বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩০০ মিটার। ওই অঞ্চলে প্রায় ৩০০টি বাড়ি জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
-
নুয়াকোট জেলা: জেলার অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চৌপথোকে বন্যার আগে ত্রিশূলী নদী ছিল প্রায় ৬৫ মিটার চওড়া। বন্যার পরে সেটি ফুলে-ফেঁপে প্রায় ৪৪৩ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে—অর্থাৎ প্রায় ছয় গুণ! অন্যদিকে, বাত্তার এলাকায় নদীর প্রস্থ ৯১ মিটার থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩০৯ মিটার।
উদ্ধারকাজে অলৌকিক ঘটনা ও প্রাণহানি
এদিকে বিপর্যয়ের দশম দিনেও নেপালে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। এর মাঝেই ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন পর সুড়ঙ্গ থেকে তাঁদের জীবিত উদ্ধার করা কার্যত একটি অলৌকিক ঘটনা।
তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে এখনও পর্যন্ত ১২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫,০৮৩ জন। শুধু নেপাল নয়, তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন চিনের এলাকাতেও এই বিপর্যয়ের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি অঞ্চলে এমন আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গোটা জনপদকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে পারে, উপগ্রহচিত্রের এই ভয়াবহ তথ্য তারই এক নির্মম দলিল।