Dhancha Farming: পশুখাদ্যের দুশ্চিন্তা উধাও! এই বিশেষ চাষ করলেই মিলবে লাখ টাকা লাভ, জানুন পদ্ধতি

বর্ষা এলেই গ্রামবাংলার বহু এলাকায় পশুখাদ্যের জোগান নিয়ে বড়সড় সমস্যায় পড়তে হয় পশুপালকদের। মাঠে চাষের কাজ চলায় কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক সময় পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস বা পশুখাদ্য পাওয়া যায় না। আর এই সংকটের দিনগুলিতেই পশুখাদ্যের ঘাটতি মেটাতে দুর্দান্ত ভূমিকা নিতে পারে ধনচে গাছ। এই গাছকে কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা অনাবাদি জমিতে চাষের পাশাপাশি আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন বসিরহাটের আকিপুর গ্রামের এক তরুণ উদ্যোক্তা জালাল উদ্দিন নূর।

পতিত জমিকে বানালেন সোনা ফলানোর ক্ষেত্র

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা অনুর্বর ও পতিত জমিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই ধনচে চাষ শুরু করেন জালাল উদ্দিন। সাধারণভাবে এই গাছ পশুখাদ্য হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিত। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে যখন গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত সবুজ খাদ্যের হাহাকার পড়ে, তখন এই ধনচে গাছ নিশ্চিত করতে পারে পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান।

তবে ধনচের উপকারিতা কেবল পশুখাদ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও এটি অত্যন্ত জাদুকরি ভূমিকা পালন করে। তেঁতুল পাতার মতো দেখতে এই গাছ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায়। রোপণের মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই গাছগুলি ছয় থেকে সাত ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে যায়। পরিণত হওয়ার পর গাছগুলো কেটে জমির মধ্যেই রেখে দিলে ধীরে ধীরে তা পচে জৈবসারে পরিণত হয় এবং মাটির উর্বরতাশক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রাকৃতিক উপায়ে উর্বরতা বৃদ্ধি

এর ফলে রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যায় এবং মাটির গুণমান উন্নত হওয়ায় পরবর্তীতে অন্য ফসল চাষের পথও প্রশস্ত হয়। একসময় গ্রামবাংলার বহু চাষিই জমির মান বাড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি, ধনচের দানা পাখির খাদ্য হিসেবেও অত্যন্ত উপযোগী।

পশুখাদ্যের জোগান, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত আয়—এই তিন দিক থেকেই জালাল উদ্দিন নূরের এই অভিনব উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। কম খরচে অনাবাদি জমিকে সম্পদে পরিণত করার এই মডেল এখন বহু বেকার যুবককেই নতুন করে কৃষিকাজের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *