ডলারের রেকর্ড বন্যায় কি দেউলিয়া হবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক? কেন্দ্রের চাঞ্চল্যকর দাবিতে শোরগোল অর্থনীতিতে!

ভারতে বিদেশি পুঁজির প্রবল প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের মতে, ডলারের বিপুল প্রবাহ সামাল দিতে এবং রুপির বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে গৃহীত মুদ্রা কার্যক্রমের ফলে আরবিআইয়ের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক বোঝা তৈরি হবে না। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বর্তমান তারল্যের প্রবণতা, নিয়ন্ত্রিত মুনাফার হার এবং মার্কিন ট্রেজারি থেকে প্রাপ্ত শক্তিশালী সুদ আয়ের সুবাদে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিজস্ব পরিচালন ব্যয় স্বাচ্ছন্দ্যে সামাল দিতে সক্ষম, যার ফলে সরকারের লভ্যাংশেও কোনো প্রভাব পড়বে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বড় কোনো আর্থিক চাপ নেই

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোয়াপ-সুবিধাযুক্ত বৈদেশিক মুদ্রা কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত রেকর্ড ১২৭ বিলিয়ন ডলার তহবিল থেকে আরবিআইয়ের বড় কোনো খরচ হবে না বলেই আশা করছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা ছিল যে, ফরেন কারেন্সি নন-রেসিডেন্ট-ব্যাঙ্ক (এফসিএনআর-বি) এবং অন্যান্য বৈদেশিক কর্মসূচিগুলোর উচ্চ হেজিং ও তারল্য ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, এই বিশাল পরিমাণ তহবিল মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ করা হলে সেখান থেকে মোটা অঙ্কমের মুনাফা আসবে। ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট মেয়াদপূর্তির ৫২-সপ্তাহের মার্কিন ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৪.১৪%।

হেজিং খরচ ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ঝুঁকি

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, ডলারের প্রবাহের জেরে অতিরিক্ত তারল্য শোষণ এবং বিনিময় হারের ঝুঁকি সামলাতে আরবিআইকে বড় অংকের খরচ করতে হতে পারে। ব্যাংক অফ বরোদার প্রধান অর্থনীতিবিদ মদন সবনবীশের মতে, সোয়াপ খরচ বাবদ প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ব্যাঙ্কের আয় কিছুটা কমিয়ে কন্টিনজেন্ট রিস্ক বাফার (সিআরবি)-এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নীতি নির্ধারকদের বিশ্বাস, মার্কিন ট্রেজারিতে বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ বিনিয়োগ থেকে আসা সুদ দিয়েই এই সম্ভাব্য ক্ষতি সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে বাজার এই অতিরিক্ত তারল্য সহজেই শোষণ করে নেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *