আসমানেই বিভীষিকা! এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে আকস্মিক পতন, পাইলটের ড্রাগ টেস্ট পজিটিভ আসতেই উড়াল পুলষে

ফুকেত থেকে নয়াদিল্লি আসার পথে মাঝআকাশে বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বিমান সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। গত ৪ আগস্ট ঘটে যাওয়া ওই ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে নেমে জানা গেছে, এয়ারবাস এ৩২০ বিমানটির পরপর তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমেই সাময়িকভাবে প্রেসার বা চাপ সম্পূর্ণ হারিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পর বিমানের পাইলট-ইন-কম্যান্ডের ড্রাগ টেস্টের ফল ‘পজিটিভ’ আসায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বলে জানিয়ে এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ও ডিজিসিএ-কে (DGCA) কঠোর পদক্ষেপ করার সুপারিশ করেছে তদন্তকারী দল।
মাঝ আকাশে আসলে কী ঘটেছিল?
১৩৭ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি যখন এফএল ৩৬০ (Flight Level 360) উচ্চতায় উড়ছিল, তখন হঠাৎই বিমানের ফ্লাইট-কন্ট্রোল সিস্টেমে গ্রিন হাইড্রোলিক সিস্টেমে প্রেসার কমে যাওয়ার সংকেত আসে। এর ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্লু ও ইয়েলো হাইড্রোলিক সিস্টেমেও একই সমস্যা দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে প্লেনের অটোপাইলট ডিসেঙ্গেজ হয়ে যায় এবং স্টোল ওয়ার্নিং বা বিপদ সঙ্কেত বেজে ওঠে। যদিও পরবর্তী সময়ে হাইড্রোলিক সিস্টেমগুলি সচল হওয়ায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় বিমানটি।
তবে এই যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে কেবিনের ভেতরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় সিটবেল্ট বাঁধার সাইন বন্ধ থাকায় ঝাঁকুনিতে একাধিক যাত্রী এবং কেবিন ক্রু শূন্যে ছিটকে পড়েন। বিমানটি নিরাপদে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর মোট ২৪ জন চিকিৎসা নেন। যার মধ্যে ২০ জন প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে গেলেও, গুরুতর জখম হওয়ায় ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
পাইলটের ড্রাগ টেস্ট নিয়ে চাঞ্চল্য
তদন্তে নেমে এএআইবি জানতে পেরেছে, বিমান চালনা সংক্রান্ত গুরুতর ত্রুটির পাশাপাশি ফ্লাইটের এক ক্রু সদস্যের শরীর থেকে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি মিলেছে। এই ধরনের মাদকের ব্যবহার বিমান চালনার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে এবং কড়া নজরদারি চালাতে ডিজিসিএ-কে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এএআইবি।