টলিউডের মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর কাঁধে এল বিরাট দায়িত্ব! কোন বড় পদ পেলেন অভিনেতা?

টলিউডের ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীর জন্য এল আরও এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এবার আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে চলেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। নিউটাউনে মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এই কর্মসূচিগুলি মসৃণভাবে পরিচালনা করার জন্যই সম্প্রতি একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে সহ-পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব পেয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

এছাড়াও এই কমিটির সভাপতি পদে রাখা হয়েছে বিশিষ্ট পরিচালক সন্দীপ রায়কে এবং কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহন। এই কমিটিতে মিঠুন ছাড়াও টলিউডের একঝাঁক তারকা ও বিশিষ্ট মুখকে রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘ তালিকায় দেব, জিৎ, আবির চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো নামী ব্যক্তিত্বরা যুক্ত রয়েছেন।

কেবল উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজনই নয়, এই কমিটির পরিধি আরও বেশ প্রশস্ত। মহানায়কের জীবন ও চলচ্চিত্রের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বছরভর বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা করা, সেগুলির বাস্তবায়ন তদারকি করা এবং সাংস্কৃতিক, চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও আর্কাইভ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সঠিক পরামর্শ দেওয়াই এই প্যানেলের মূল কাজ। ফলে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার কাঁধে এই নতুন দায়িত্ব অর্পিত হওয়ায় সিনে মহলে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের ওই অনুষ্ঠানেই বাংলায় শুটিং করা ছবির জন্য ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার জোরালো দাবি তুলেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর সেই প্রস্তাবে তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিল্পীদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, পরিকাঠামো কোথায় দরকার কিংবা বাজেট বরাদ্দের জন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন হলে সরকার তাতে পিছপা হবে না। সবমিলিয়ে, মিঠুনের নতুন ভূমিকা এবং রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে বাংলার বিনোদন জগতের আগামী দিনগুলিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *