সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেমে পরিণতি মর্মান্তিক! দেড় বছরের মধ্যেই স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন স্বামীর, নেপথ্যে কোন রহস্য?

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাপ থেকে শুরু হওয়া প্রেমের সম্পর্ক পরিণয়ে গড়ালেও সেই সুখের সংসার টিকল মাত্র দেড় বছর। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত স্বামী। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম যশ ঠাকুর এবং তাঁর বয়স ২৮ বছর। পুলিশ বর্তমানে তাঁর তল্লাশিতে জোরদার অভিযান শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবতীর নাম শিবানী ওরফে সুধা, যিনি আদতে মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। বিয়ের পর গত তিন মাস ধরে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির সিপ্রি এলাকায় বসবাস করছিলেন তাঁরা। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, গত রবিবার রাতে যশ ও সুধার মধ্যে একটি ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। এরপর রাতে দুজনেই ঘুমাতে যান।
সেই সময় সুধার ১৮ বছরের বোন মুসকান পাশের ঘরেই ঘুমাচ্ছিলেন। মুসকান জানিয়েছেন, রাত দেড়টা থেকে দু’টো নাগাদ যশ তাঁর ঘরে এসে একটি ব্যাগ চান। সেই ব্যাগ নিয়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থেকে মুসকানের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এমনকি ভোররাতেও দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সোমবার সকালে বাড়িতে এসে শিবানীর ভাই দিদির ঘর খুলে দেখেন যে সুধা অচৈতন্য অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতার ভাই অনিকেত জানিয়েছেন, সুধার গলায় স্পষ্ট আঘাতের দাগ ছিল এবং কানের কাছেও রক্ত লেগেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি যশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মুসকান জানান, প্রায় দু’বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় যশের সঙ্গে সুধার পরিচয় হয় এবং দেড় বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে ধুমধাম করে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়শই দু’জনের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস খুন করা হলো, তা এখনও পরিষ্কার নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।