গার্লফ্রেন্ডের ওই একটা ভুলেই সব শেষ! বেঙ্গালুরুর হোটেল থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার মোস্ট ওয়ান্টেড সোমনাথ দে

মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি আসার দিন থেকেই তিনি টের পেয়েছিলেন বিপদের আঁচ। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির পর ভয়ে আরও তটস্থ হয়ে পড়েন পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। তারপর থেকেই একটানা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের চোখ এড়াতে বারবার বদলেছিলেন মোবাইলের সিম কার্ডও। ওড়িশা এবং হায়দরাবাদ সহ একাধিক জায়গায় লাগাতার তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না; প্রেমিকার একটি ফোনের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পলাতক এই নেতা।

খড়দহ থানার পুলিশ ও ব্যারাকপুর ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের যৌথ অভিযানে সোমনাথ দে-কে গ্রেফ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমনাথের নাগাল পেতে তাঁর মেয়ে এবং প্রেমিকার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করা হচ্ছিল। বুধবার গভীর রাতে প্রেমিকার মোবাইল লোকেশন ধরে বেঙ্গালুরুর একটি হোটেল থেকে তাঁকে পাকড়াও করে ব্যারাকপুর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয় এবং ট্রানজিট রিমান্ডে বিমানে করে সোজা কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও ধৃত প্রাক্তন চেয়ারম্যান একটি টু শব্দও করেননি। এরপর পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে সোজা খড়দহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আর কর হাসপাতালের চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর মৃতদেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত তড়িঘড়ি দাহ করার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন এই সোমনাথ দে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগী পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ ছিল যে জোর করে ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে সই করানো হয়েছিল এবং নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সমস্ত প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এর আগে এই একই মামলায় ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারিতে এখন চরম শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *