নেতাজিকে নিয়ে ‘ওয়ার ক্রিমিনাল’ মন্তব্য! অনন্ত মহারাজের গ্রেফতারি চেয়ে সরাসরি হাইকোর্টের কড়া নাড়লেন মামলাকারী

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একাধিকবার অবমাননাকর ও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগের জল গড়াল আদালত পর্যন্ত। স্বঘোষিত ‘রাজা’ তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও কঠোর তদন্তের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? মামলাকারীর আইনজীবী সায়ন দত্ত জানান, এর আগে গত ২৯ জুলাই অর্ণব পাল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি সংসদ মার্গ পুলিশ স্টেশন, কোচবিহারের এসপি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাইবার ক্রাইম থানায় অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা তদন্ত না হওয়ায় শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
বিতর্কিত মন্তব্য ও ড্যামেজ কন্ট্রোল: কিছুদিন আগে এক জনসভায় অনন্ত মহারাজ মন্তব্য করেছিলেন, “নেতাজি দেশের বিরুদ্ধে বন্দুক ধরেছিল কি না? তাহলে সে দেশদ্রোহী তো? …কেউ বলে শিরায় শিরায় নেতাজি! নেতাজি তোমার কোথায় আছে DNA টেস্ট করা হবে। নেতাজি একজন ওয়ার ক্রিমিনাল।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। উত্তরবঙ্গের বিধায়ক ও মন্ত্রীরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এমনকি গত ১৩ আগস্ট রাজ্য সরকার তাঁর প্রাপ্ত ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানও কেড়ে নেয়।
চাপের মুখে পড়ে অবশ্য পরে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তায় অনন্ত মহারাজ দাবি করেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর ওই মন্তব্য অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং এর ফলে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। ইতিমধ্যে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় ফরওয়ার্ড ব্লক নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে এবং এই সংক্রান্ত একটি পোস্টের জেরে পিন্টু রায় ও কৃষ্ণ কার্জী নামের দুই গ্রেটার নেতাকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। এবার হাইকোর্টের এই নতুন মামলার জেরে আইনি চাপ আরও বাড়ল বিতর্কিত এই সাংসদের ওপর।