২৮০ কিমি গতির ট্রেন, দেশেই তৈরি! জাপান-ইউরোপকে টেক্কা দিতে ভারতের নতুন অস্ত্র B-28—পড়ুন বিস্তারিত

ভারতীয় রেল এবার দেশের মাটিতেই হাই-স্পিড ট্রেন তৈরির দিকে বড় পদক্ষেপ নিল। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF) ইতিমধ্যেই বিইএমএল লিমিটেডকে (BEML) ৮৬৬.৮৭ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়েছে দুটি হাই-স্পিড ট্রেনসেটের প্রোটোটাইপ তৈরির জন্য। প্রতিটি ট্রেনসেটে থাকবে আটটি করে কোচ এবং এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার।
রেলের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ প্রস্তুত করা। এরপর গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা RDSO পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবে। সব ঠিকঠাক থাকলে, ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে মুম্বাই–আমেদাবাদ হাই-স্পিড করিডোরের একটি অংশে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🔍 ‘বি-২৮’—নামকরণ ও নির্মাণ পরিকাঠামো
এই হাই-স্পিড ট্রেনসেটগুলির সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘B-28’। বিইএমএল এই ট্রেন তৈরির জন্য বেঙ্গালুরুতে ‘আদিত্য’ নামে একটি বিশেষ কমপ্লেক্স গড়ে তুলেছে। ট্রেনগুলিতে থাকবে—
-
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার-কার কোচ
-
অনবোর্ড ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম
-
হেলানো ও ঘোরানো যায় এমন আরামদায়ক আসন
-
প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
🌡️ ভারতের আবহাওয়ায় বুলেট ট্রেন—চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
ভারতের প্রচণ্ড গরম, ধুলোবালি ও বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার জন্য ট্রেনের নকশা করা বড় চ্যালেঞ্জ। জাপান ও ইউরোপের বুলেট ট্রেনগুলি তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা অঞ্চলের জন্য তৈরি। তাই ভারতীয় রেল এই ট্রেনগুলিতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ৩০০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতির জন্য অ্যালুমিনিয়ামের ট্রেনসেটও বিবেচনায় রয়েছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ভারত ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিসম্পন্ন পরবর্তী প্রজন্মের বুলেট ট্রেন তৈরির জন্যও কাজ করছে।
⚙️ প্রযুক্তিগত দিক: কেন এটি আলাদা?
একটি ২৮০ কিমি/ঘণ্টার ট্রেন তৈরি করা সাধারণ LHB কোচ তৈরির চেয়ে অনেক জটিল। উচ্চ গতিতে স্থিতিশিতা ও আরাম বজায় রাখতে—
-
ট্রেনের কাঠামো হালকা কিন্তু মজবুত করতে হবে
-
চাকা ও সাসপেনশন এমনভাবে ডিজাইন করতে হবে যাতে ঝাঁকুনি ন্যূনতম হয়
-
বায়ুচাপ কমাতে অ্যারোডাইনামিক নকশা
-
উচ্চ-ক্ষমতার মোটর, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম ও সংঘর্ষ-বিরোধী সুরক্ষা প্রযুক্তি
🛤️ মুম্বাই–আমেদাবাদ করিডোর ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০১৭ সালে শুরু হওয়া মুম্বাই–আমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল প্রকল্প হবে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন করিডোর। সুরাট–বিলিমোরা অংশটি প্রথম চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের বাজেটে ৭টি নতুন হাই-স্পিড করিডোর ঘোষণা করা হয়েছে—
-
মুম্বাই–পুনে
-
পুনে–হায়দরাবাদ
-
হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু
-
হায়দরাবাদ–চেন্নাই
-
চেন্নাই–বেঙ্গালুরু
-
দিল্লি–বারাণসী
-
বারাণসী–শিলিগুڑি
এই করিডোরগুলি চালু হলে ভারতের মধ্যে দূরপাল্লার যাত্রার সময় ব্যাপক হারে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
📌 এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয়বস্তু | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | B-28 (হাই-স্পিড ট্রেনসেট) |
| নির্মাতা | BEML (বেঙ্গালুরুর ‘আদিত্য’ কমপ্লেক্স) |
| টেন্ডার মূল্য | ৮৬৬.৮৭ কোটি টাকা |
| গতি | ঘণ্টায় ২৮০ কিমি |
| কোচ সংখ্যা | প্রতিটি ট্রেনসেটে ৮টি কোচ |
| প্রথম প্রোটোটাইপ | ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে |
| পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা | ২০২৭ সালের আগস্ট (মুম্বাই–আমেদাবাদ করিডোরে) |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা গতির ট্রেন |
আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনটি মোবাইল পুশ নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন বা Google News-উপযোগী সংক্ষিপ্ত সংস্করণে রূপান্তর করে দিতে পারি। জানাবেন।