ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে রহস্যজনক হানা! ৬ জনকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

ভোররাতে আকস্মিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই অতর্কিত হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কার্যালয়টি। ঘটনার পরই তৎপর হয় পুলিশ এবং তড়িঘড়ি অভিযান চালিয়ে মোট ৬ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

কীভাবে ঘটেছিল এই ঘটনা? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যামাক স্ট্রিটের বহুতলের ওপরের দুটি ফ্লোরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় অবস্থিত। গভীর রাতে প্রায় ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওই কার্যালয়ে জোর করে প্রবেশ করে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার জেরে অফিসজুড়ে তছনছ অবস্থার সৃষ্টি হয়, যার ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেয়ারবাজার ও স্থানীয় শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ সকাল ৬টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ভাঙচুরের নানা আলামত বাজেট করে।

পুলিশের তদন্ত ও ধৃতদের পরিচয়: পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, অবিনাশ কুমার সাউ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়া ছয় অভিযুক্ত—অবিনাশ কুমার সাউ, সুখদেব গুপ্তা, সুরাজ সাউ, ভোম্বল মন্ডল, শঙ্কর রাও এবং রোহিত পোড়েল—সকলেই হাওড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগ বা চুরির উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।

আদালতে অভিযুক্তদের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালেও সরকারি পক্ষের আইনজীবীর আপত্তির ভিত্তিতে বিচারক জামিন ও পুলিশ হেফাজতের আর্জি খারিজ করে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় পরিকল্পিতভাবে লুম্পেন ও গুন্ডাবাহিনী ঢুকিয়ে এই ধরনের বেআইনি কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলেই দাবি জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। তবে গভীর রাতে এই আকস্মিক হানার প্রকৃত রহস্য কী এবং এর নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, তা জানতে এখন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *