নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ! ডিএনএ স্যাম্পেল দিয়ে চলছে খোঁজ, চরম উৎকণ্ঠায় পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও হড়পা বানের গ্রাসে নিখোঁজ রাজনৈতিক মহলের পরিচিত মুখ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ আট দিন অতিক্রান্ত হলেও তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় ও তাঁর পরিবার। নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার সন্ধানে এবার ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।
পরিবারের আকুতি ও ডিএনএ টেস্ট: পরিবার সূত্রে খবর, স্ত্রীর সন্ধান পেতে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে শর্মিষ্ঠা দেবীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই স্যাম্পেল পরীক্ষার জন্য সাগর দত্ত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে খবর মিলেছে। বাড়িতে মায়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে শুভ্রাংশুর দুই সন্তান। স্ত্রীর সন্ধানে হন্যে হয়ে ওঠার পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টও করেছেন শুভ্রাংশু। সেখানে শর্মিষ্ঠার নাম, ছবি এবং একটি যোগাযোগের নম্বর (9051377068) শেয়ার করে সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে।
শুভ্রাংশু রায় জানান, গত ২৫ আগস্ট রাতে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল। তখন মূলত ট্যুরের টুকিটাকি বিষয় নিয়েই কথা হয়। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনোভাবেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নবান্নের তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই বিপত্তি? পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে ৩২ জনের একটি দলের অংশ হিসেবে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন শর্মিষ্ঠা। এই দলের গন্তব্য ছিল কৈলাস-মানস সরোবর। পরিবারের পক্ষ থেকে শর্মিষ্ঠা একাই এই সফরে গিয়েছিলেন।
গত বুধবার ভোরে চিন-তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়াগড়ি এলাকায় আচমকা মেঘভাঙা বৃষ্টি ও ভয়াবহ হড়পা বানে নিমেষেই ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ভোতেকোশী নদীর রাক্ষুসে স্রোত সবকিছু গ্রাস করে। জানা গেছে, শর্মিষ্ঠারা বিপর্যয়ের আগে ‘শুভম গেস্ট হাউস’ নামে একটি হোটেলে উঠেছিলেন এবং তাঁদের শেষবার গিরং পোর্টে দেখা গিয়েছিল।
রক্ষা পেলেন সিউড়ির পর্যটক: এই একই দলে হাওড়া থেকে রওনা দেওয়া সিউড়ির বাসিন্দা সন্দীপ দেব অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, শর্মিষ্ঠাদের দলের ভিসা আগে আসায় তাঁরা একদিন আগেই ইমিগ্রেশন পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছিলেন—যেখানেই পরবর্তীতে আছড়ে পড়েছিল জলের সেই রাক্ষুসে স্রোত। কাঠমাণ্ডু থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বাসের উল্টোদিকে মানুষের প্রাণভয়ে ছোটাছুটি ও পাহাড় বেয়ে ধেয়ে আসা জলের বিশাল ঢেউ দেখে তাঁদের চালক তৎক্ষণাৎ বাস ঘুরিয়ে নেন। সহযাত্রীর এই রোমহর্ষক বিবরণী শোনার পর থেকেই রায় পরিবারের দুশ্চিন্তা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের দ্রুত ও সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা পরিবার।