কয়লা সম্রাট থেকে সোজা হোল্ডিং কোম্পানি! কোল ইন্ডিয়ার এই গোপন চালে মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের?

বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা উৎপাদনকারী সংস্থা কোল ইন্ডিয়াকে (Coal India) নিয়ে স্টক মার্কেটে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এতদিন যে সংস্থাকে সরাসরি খনি পরিচালনাকারী হিসেবে চেনা হতো, তাদের কার্যপদ্ধতিতে এক মৌলিক পরিবর্তন আসছে। মূল কোম্পানি নিজে সরাসরি কয়লা খনি চালানোর বদলে এখন মূলত তাদের আটটি সাবসিডিয়ারি বা সহায়ক সংস্থার লভ্যাংশ সংগ্রহ এবং তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করার ভূমিকায় চলে এসেছে।
কোল ইন্ডিয়া ২.০ এবং আইপিও ঝড়ের প্রভাব
চলতি অর্থবর্ষের আর্থিক পরিসংখ্যান এই দ্বৈত রূপকে স্পষ্ট করে তুলেছে। কনসোলিডেটেড ভিত্তিতে সংস্থাটি ১,৬৮,৪00 কোটি টাকা রাজস্ব এবং ৩১,০৭১ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করলেও, একক বা স্ট্যান্ডঅ্যালোন ভিত্তিতে রাজস্ব ছিল মাত্র ১,৫৭৭ কোটি টাকা। তবে সাবসিডিয়ারিগুলির দেওয়া লভ্যাংশ থেকেই মূল কোম্পানির স্ট্যান্ডঅ্যালোন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৮,৮৬৪ কোটি টাকায়।
এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত হচ্ছে সাবসিডিয়ারিগুলির একের পর এক আইপিও (IPO) আসার কারণে। ইতিমধ্যে ভারত কোকিং কোল লিমিটেড এবং সেন্ট্রাল মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর পর মহানদী কোলফিল্ডস এবং সাউথ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস-এর মতো বড় সাবসিডিয়ারিগুলির আইপিও বাজারে আসার পথে রয়েছে, যা কনসোলিডেটেড টারোভারের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য হোল্ডিং কোম্পানির ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক আইপিও তালিকাভুক্তির ফলে একটি বড় কাঠামোগত বাজার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যাকে বলা হয় ‘হোল্ডিং কোম্পানি ডিসকাউন্ট’ (Holding Company Discount)। সহজ কথায়, যখন বাজার কোনো হোল্ডিং কোম্পানিকে তার মালিকানাধীন ব্যবসাগুলির সম্মিলিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে মূল্যায়ন করে, তখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষ অপারেশনাল কন্ট্রোলের অভাব এবং ডাবল ট্যাক্সেশনের উদ্বেগের কারণে দালাল স্ট্রিটে বিশুদ্ধ হোল্ডিং কোম্পানিগুলিতে সাধারণত ২৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ধরা হয়।
মহানন্দী বা সাউথ ইস্টার্ন কোলফিল্ডস-এর মতো লাভজনক ইউনিটগুলি আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সহায়ক সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। ফলে আগামী দিনে কোল ইন্ডিয়ার মূল কোম্পানির মূল্যায়ন এবং শেয়ারের বৃদ্ধিতে এর প্রভাব পড়তে পারে। কয়লা উৎপাদনের গণ্ডি পেরিয়ে কোল ইন্ডিয়া এখন মূলত কয়লা সম্পত্তির একটি হোল্ডিং কোম্পানিতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের নজর রাখতে হবে মূলধন বরাদ্দ এবং লভ্যাংশের স্থায়িত্বের ওপর।