পুজোর পরেই কি রাজ্যে পুরভোট? নবান্ন ও কমিশনের বৈঠকে কোন বড় বার্তা উঠে এল?

দুর্গাপুজো মিটতেই রাজ্যজুড়ে পুরসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্প্রতি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তার সভাপতিত্বে হওয়া এই বৈঠকে ছয়টি জেলার জেলাশাসক এবং ডিস্ট্রিক্ট মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন আধিকারিকরা অংশ নেন। এর মধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, পুজো শেষ হওয়ার আগেই ভোটের প্রস্তুতিমূলক কাজের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ করে ফেলতে হবে। এছাড়া ভোট যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রতিটি জেলায় প্রয়োজনীয় পুলিশ বাহিনীর সঠিক হিসাবও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
বৈঠকে মূলত ভোটপ্রক্রিয়ার পূর্বপ্রস্তুতিগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরসভার সীমানা পুনর্বিন্যাস, সংরক্ষিত আসনের তালিকা প্রস্তুত করা, ইভিএমের বন্দোবস্ত, ভোটার তালিকা সংশোধন ও চূড়ান্তকরণ, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র নির্ধারণ এবং ভোটকর্মী নিয়োগ। ভোটের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই যাতে প্রশাসনিক পরিকাঠামো সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে, কমিশন সেই বিষয়েই সর্বাধিক জোর দিচ্ছে।
তবে ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন সংক্রান্ত কিছু ধোঁয়াশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম দিয়েই পুরভোট হবে, নাকি অন্য ধরনের মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মূলত হাতে ঠিক কতগুলি ইভিএম পাওয়া যাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী কৌশল। মেশিনগুলির জোগান সুনিশ্চিত হওয়ার পরই ভোটগ্রহণ পদ্ধতি বা ধাপ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকি একদিনে সব কটি পুরসভায় ভোট হবে, নাকি একাধিক ধাপে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত কিছু ঠিক হয়নি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের যে সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন আটকে রয়েছে, তার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনগুলি রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের কার্সিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, ধূপগুড়ি এবং বালি, ডোমকল, পূজালি, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প ও নলহাটির মতো একাধিক পুরসভাতেও নির্বাচন বকেয়া রয়েছে।
ভোটের কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সেই তালিকার ওপর কোনো আপত্তি বা অভিযোগ জমা পড়লে তা যাচাই করে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুম কাটলেই রাজ্যজুড়ে বকেয়া পুরভোটগুলি সম্পন্ন করতে তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন।