পাকিস্তান দলে কি সার্কাস চলছে? লর্ডসে লজ্জাজনক হার, পাক ক্রিকেটে রক্তক্ষয়ী রদবদল!

নয়ের দশকের অপ্রতিরোধ্য পাকিস্তান দলের সেই দাপট আজ শুধুই অতীত। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস কিংবা শোয়েব আখতারদের উত্তরসূরিদের বর্তমান দুর্দশা দেখে আজ স্তব্ধ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রানে লজ্জাজনক পরাজয় এবং সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে যা ঘটেছে, তা তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে এক বেনজির ঘটনা। দলের অন্দরের এই চরম বিশৃঙ্খলা যেন এক আক্ষরিক অর্থেই সার্কাসে পরিণত হয়েছে।
ইংল্যান্ড সফরের ঠিক মাঝপথে বর্তমান টেস্ট স্কোয়াড থেকে একঝটকায় ৭ জন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বরখাস্ত করা হয়েছে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে। এই ব্যাপক রদবদলের পর পাকিস্তান নির্বাচন কমিটি থেকেও পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ-উল-হক। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পাকিস্তান দল কার্যত অস্ত্রোপচারের টেবিলে রয়েছে এবং একেবারেই এক নতুন ও অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে চলেছে তারা।
লর্ডস বিপর্যয়ের নেপথ্যে কোন ৭ ক্রিকেটার বাদ?
লর্ডসে ২০টি টেস্টের মধ্যে ১৫তম হারের স্বাদ পাওয়ার পরই কঠোর পদক্ষেপ নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সদ্য বাদ পড়া ৭ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছেন অভিজ্ঞ মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলি উসমান, আমির জামাল, আওয়াইস জাফর এবং খুররাম শাহজাদ। তাঁদের জায়গায় দলে আসা ৫ জন অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছেন স্যাম আইয়ুব, আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাস, মহম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মহম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া এবং রাজাউল্লাহ। সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে এখন টেস্ট দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পতনের শুরু ২০২৩ সাল থেকে
পাকিস্তান ক্রিকেটের এই বেহাল দশার শুরু মূলত ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ থেকে। গত তিন বছরে দলটিতে যেভাবে লাগাতার অধিনায়ক ও কোচ বদল হয়েছে, তা ক্রিকেট মহলে নজিরবিহীন। শান মাসুদ থেকে শাহিন শাহ আফ্রিদি কিংবা বাবর আজম— বারবার নেতৃত্ব বদল করেও ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেনি পাকিস্তান। ২০২৩-২৪ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর হোক কিংবা ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি— প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় বা ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। বোর্ডের অস্থিতিশীল নীতি, বারবার নির্বাচক কমিটির রদবদল এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির জমানার খামখেয়ালি সিদ্ধান্তই দলটিকে আজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে নিয়ে এসে ফেলেছে।