দেশের হয়ে জিতেছেন ৪টি সোনার পদক! আজ পেটের টানে রাঁচির রাস্তায় সবজি বেচছেন এই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়

দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করে একের পর এক পদক জয়। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ পেটের টানে সবজি বিক্রি করতে এবং ট্যাক্সি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন এক সোনার ছেলে। ঝাড়খণ্ডের অমরদীপের এই করুণ ও মর্মান্তিক কাহিনি যে কারও চোখেই জল এনে দিতে পারে। দেশকে একাধিক গৌরব এনে দেওয়ার পরও প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় আজ চরম অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম এই ক্রীড়াবিদের।
৯ বছরে ৪টি আন্তর্জাতিক পদক, তবুও কপালে জুটেছে শুধুই অবহেলা
রাঁচির বাসিন্দা অমরদীপ কুমার পেশায় একজন থ্রো-বল (Throw-ball) খেলোয়াড়। ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ সময় ধরে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিয়ে তিনি মোট চারটি গোল্ড মেডেল (সোনার পদক) জিতেছেন। যেখানে বহু কৃতি খেলোয়াড়ের গোটা জীবন কেটে যায় একটিমাত্র আন্তর্জাতিক পদকের অপেক্ষায়, সেখানে অমরদীপ দেশকে চার-চারটি সোনা উপহার দিয়েছেন। কিন্তু বিনিময়ে তিনি পাননি কোনো সরকারি চাকরি, মেলেনি ন্যূনতম কোনো আর্থিক সাহায্যও।
দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের সংস্থান করতে আজ বাধ্য হয়ে সবজি বিক্রেতার খাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। দেশকে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থার এমন নির্মম উপেক্ষার কথাই বারবার উঠে এসেছে অমরদীপের আক্ষেপভরা কন্ঠে।
সবজির দোকানেই ঝুলছে দেশের হয়ে জেতা সোনার পদক
ধারদেনা ও লোন নিয়ে বর্তমানে একটি ট্যাক্সি কিনেছেন অমরদীপ। যখন রাইড বা বুকিং পান, তখন ট্যাক্সি চালান; আর বাকি সময়ে রাঁচির আরগোড়া চকে সবজি বিক্রি করেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তাঁর সেই সাধারণ সবজির দখোনেই ঝুলছে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জেতা তাঁর সেই অমূল্য সোনার পদকগুলো—যা নীরব সাক্ষী হয়ে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো একজন কৃতি খেলোয়াড়কে রাস্তায় সবজি বিক্রি করতে বাধ্য করেছে।
খাতা-কলমে নীতি, বাস্তবে শূন্য প্রাপ্তি
এদিকে, চলতি বছরেই ঝাড়খণ্ড সরকার রাজ্যের কৃতি খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য ‘ঝাড়খণ্ড উৎকৃষ্ট খেলোয়াড়ের সরাসরি নিয়োগ’ নামে একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করেছে। এই নীতি অনুযায়ী, পুলিশ বিভাগ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এবং লোকসেবা আয়োগেও (PSC) খেলোয়াড়দের সরাসরি চাকরির সংস্থান রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চাকরির ক্ষেত্রে বয়সে ১০ বছরের অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কিন্তু সরকারি এই নীতির বাস্তব রূপ যে কতটা ফাঁকা, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ অমরদীপ। চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আজ পর্যন্ত কোনো নিয়োগপত্র তাঁর হাতে আসেনি। তবে প্রশাসন ও সিস্টেম তাঁকে যতই কোণঠাসা করুক না কেন, অমরদীপ কিন্তু হার মানেননি। সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি আজও নিয়ম করে থ্রো-বলের অনুশীলন চালিয়ে যান, যান স্টেডিয়ামেও। কারণ, শত কষ্টের মাঝেও দেশের জার্সিতে ফের আরও একটি গোল্ড মেডেল জয়ের স্বপ্ন বুকে লালন করে চলেছেন তিনি।