‘অনেক হয়েছে, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করুন!’ খাস কলকাতার বুকে ধুন্ধুমার কান্ডে চরম হুঁশিয়ারি অভিষেকের

খাস কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। শহরের অন্যতম সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই জোনে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার পরই সরাসরি কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনায় পুলিশের নিস্পৃহতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও কড়া পোস্ট করে অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল ক্যামাক স্ট্রিটে?
অভিষেকের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী আচমকাই ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে চড়াও হয়। জোরপূর্বক পার্টি অফিসের ভেতরে ঢুকে সেই সময় উপস্থিত দলীয় কর্মীদের চরম শারীরিক নিগ্রহ করা হয়। দুষ্কৃতীরা কর্মীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি অবাধে লুটতরাজ ও ভাঙচুর চালায়। অফিসের মূল্যবান আসবাবপত্র থেকে শুরু করে যাবতীয় ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম তছনছ করে দেওয়া হয়, যার ফলে পুরো কার্যালয়টি কার্যত একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও অভিষেকের ক্ষোভ
শহরের একটি হাই-সিকিউরিটি জোনে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, দুষ্কৃতীরা যখন তান্ডব চালাচ্ছিল, তখন কলকাতা পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আক্রান্ত কর্মী এবং দলের আইনজীবীরা বারবার ফোন ও ইমেল মারফত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, দীর্ঘ প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুলিশের তরফে কোনো সাড়া মেলেনি।
এই চরম অব্যবস্থা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক লিখেছেন, “আজ ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের উপর এক লজ্জাজনক এবং নগ্ন আক্রমণ। ভোর প্রায় সাড়ে চারটেয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত গুন্ডারা কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অফিস তছনছ করা হয়। কলকাতা পুলিশ তখন কোথায় ছিল?”
অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
এই হামলার নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে প্রকাশ্যে এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তাঁর সাফ কথা, হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। কারা এই ঘটনার পরিকল্পনা করেছে এবং কার নির্দেশে এই সন্ত্রাস চালিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনই বারবার খবর দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কেন সময়মতো ব্যবস্থা নিল না—তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
পোস্টের শেষলগ্নে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক লিখেছেন, “ভোর সাড়ে চারটেয় অস্ত্র হাতে একদল লোক যদি একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ঢুকে হামলা চালাতে পারে এবং সেই সময় পুলিশ যদি নির্বিকার থাকে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বলে আর কী অবশিষ্ট আছে? অনেক হয়েছে, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুন। পুলিশের ভূমিকার জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। এখনই ব্যবস্থা নিন।”