বড় বিপদ আসন্ন! মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে লক্ষাধিক কিউসেক জল ছাড়ার হুঙ্কার ডিভিসির, ভাসবে বাংলা?

মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধারে ক্রমাগত জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় সিদ্ধান্ত নিল দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি (DVRRC)। আবহাওয়া দফতরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস এবং ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিস্থিতির ওপর সার্বিক নজর রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ডিভিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আজ, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জল নিষ্কাশন করা হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে প্রকাশিত সরকারি বার্তা অনুসারে, মাইথন জলাধার থেকে ৫৫ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক—অর্থাৎ মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ জলের মধ্যে প্রতিদিন ১৫০০ একর ফুট জল সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও শিল্পাঞ্চলের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ডিভিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই জলাধারের ক্যাচমেন্ট বা জলধারণ এলাকায় লাগাতার অতিবৃষ্টি এবং ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত জলের চাপ সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে আগামী দিনে আবহাওয়া ও জলপ্রবাহের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জলের পরিমাণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে নদী তীরবর্তী ও নিম্ন অববাহিকার জেলাগুলিতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতিমধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে আগাম সতর্কতা জারি করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর, জেলা প্রশাসন এবং আসানসোলের এডিএম-কে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা (Orange Alert)।