কলা চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা দুর্নিবার সাহা! ভরত কলের হুঙ্কারে উত্তপ্ত বিগ বস হাউস

বিগ বসের অন্দরমহল মানেই সবসময় উত্তেজনার পারদ চড়ে থাকা। একদিকে কড়া নিয়ম, অন্যদিকে টিকে থাকার লড়াই। রিয়েলিটি শো-এর শুরুতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে প্রতিযোগীদের বিভাজন রেখা। অধিনায়ক ভরত কলের নেতৃত্বে মূল ঘরের টিমে রয়েছেন নন্দিনী মুখোপাধ্যায়, নিরঞ্জন মন্ডল ও সোনামনি সাহার মতো সদস্যরা। অন্যদিকে, ভোটাভুটির পর ডাগআউট হাউজে পাঠিয়ে দেওয়া হয় চার সদস্যকে—সঙ্গীতশিল্পী দুর্নিবার সাহা, প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস, সমাজমাধ্যমের চেনা মুখ ঝিলম গুপ্ত এবং অভিনেত্রী তনুশ্রী রায় দাস। পরবর্তীতে এই ডাগআউটে যোগ দিতে হয় সোহিনী পাল এবং জয়িতাকেও।

ডাগআউটে থাকা সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা একেবারেই সীমিত। তাঁদের জন্য বরাদ্দ আলাদা রেশন ও রান্নার ব্যবস্থা। আর সেই ঘাটতি মেটাতেই এবার শুরু হয়েছে মূল রান্নাঘর থেকে গোপনে খাবার সরিয়ে নেওয়ার অভিযান। তবে সেই ‘চুরি’ করতে গিয়েই ঘটল এক তুলকালাম কাণ্ড।

ডাইনিং টেবিলে বসে তখন গভীর আলোচনায় মগ্ন ভরত কল, নন্দিনী এবং জয়িতা। ঘরের অন্দরের নানা সমীকরণ নিয়ে যখন কথা চলছে, ঠিক তখনই ডাগআউটের দিকে পা টিপে টিপে কলা নিয়ে যাচ্ছিলেন দুর্নিবার। কিন্তু শেষরক্ষা হল না! বিষয়টি সোজা চোখে পড়ে যায় অধিনায়ক ভরত কলের। তিনি আটকাতে যেতেই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুর্নিবার।

এই ঘটনায় মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিস্থিতি বুঝে ভরতকে সাবধান করে নন্দিনী জানান, এটি পুরোপুরি তাঁদের পূর্বপরিকল্পিত চাল। ইচ্ছাকৃতভাবেই ভরতকে রাগিয়ে বা ট্রিগার করা হচ্ছে, যাতে সেই সুযোগে জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেওয়া যায়। স্বাভাবিকভাবেই মেজাজ হারান ভরত কল। তাঁর রাগের আসল কারণ ছিল—হাতেনাতে ধরা পড়ার পরেও দুর্নিবারের কলাটি ফেরত না দেওয়া।

ক্ষোভে ফেটে পড়ে চিৎকার করে ভরত বলেন, “আমি এখানে বসে খাচ্ছি, আমি ক্যাপ্টেন, ক্যাপ্টেনের রুমে ঢুকল কী করে?” এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন, “আমি যখন তোর চুরিটা ধরলাম, তুই নিজেকে আটকালি না কেন?” এর পর মারাত্মক রেগে গিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, ভবিষ্যতে এমন আচরণ করলে তিনি গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হবেন!

ভরতকে চরম ক্ষিপ্ত হতে দেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন নিরঞ্জন মন্ডল। তিনি ভরতকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “ভরতদা তুমি শান্ত হও, না হলে শরীর খারাপ করবে।”

তবে ভরত কল যতটাই রেগে লাল হন, উল্টোদিকে দুর্নিবার ছিলেন একেবারেই নির্বিকার ও শান্ত। কোনওরকম উত্তেজিত না হয়ে পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকা চালে এবং মজার ছলে সামাল দেন তিনি। দুর্নিবারের এই নির্বিকার প্রতিক্রিয়া ঘরের বাকিদের মুখেও হাসি ফোটায়। শেষমেশ অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিগ বসের অন্দরে এই কলা নিয়ে চোর-পুলিশ খেলা এখন দর্শকদের অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় ৩০ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই শো-এ প্রথম থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রতিদিন রাত সাড়ে নটায় টিভির পর্দায় নতুন কী নাটক অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখন থেকেই দর্শকদের কৌতূহল আকাশছোঁয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *