সরকারি হাসপাতালেই তোলাবাজি! লিফটে তোলা থেকে সন্তান দেখা—প্রতি পদক্ষেপে টাকা না দিলে মিলছে না পরিষেবা

সরকারি হাসপাতালে নিখুঁত চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে পা রাখলেই যদি পদে পদে পকেট কাটার ফন্দি থাকে, তবে সাধারণ মানুষের কোথায় যাওয়ার জায়গা? সম্প্রতি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাবে এমনই এক লজ্জাজনক ও চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, গর্ভবতী প্রসূতিদের লিফটে ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া কিংবা সদ্যজাত সন্তানকে চোখের দেখা দেখতে—সবকিছুর বিনিময়েই চলছে দেদার টাকা আদায়!

রোজকার এই অনিয়মের বহর কী? রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে দালাল বা স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ যেন একপ্রকার সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। রোগী পিছু লিফটে ওঠানোর জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অপারেশন থিয়েটার বা লেবার রুম থেকে প্রসূতিদের বের করে আনা, এমনকি সদ্যোজাত সন্তানকে পরিবারের লোকেদের দেখাতে গেলেও নাকি বাধ্যতামূলকভাবে ১০০ টাকা খসাতে হচ্ছে! ভয়ে বা রোগীর বিপদের আশঙ্কায় গরিব মানুষগুলো বাধ্য হয়েই সেই টাকা মিটিয়ে দিচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া: ভুক্তভোগী এক রোগীর আত্মীয় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “লিফটে তুলতে গেলেও যদি টাকা দিতে হয়, তবে গরিব মানুষ কোথায় যাবে?” যদিও এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ড. কল্যাণ খাঁ জানিয়েছেন যে, তাঁদের কাছে এই বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ জমা পড়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই অবৈধ টাকা আদায় বন্ধ করতে হাসপাতাল চত্বরে মাইক প্রচারও শুরু হয়েছে। তবে প্রশ্ন একটাই—প্রশাসনের কড়াকড়ির পরেও কি থামবে এই অমানবিক দুর্নীতি?

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *