মিষ্টিতে মেশানো হচ্ছে হোলির রং! রান্নাঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেড়াল, হুগলিতে মিষ্টির দোকানে হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন আর রসনাতৃপ্তির প্রধান চাবিকাঠি হলো মিষ্টি। কিন্তু প্রিয় সেই মিষ্টির গুণমান নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে, তবে শিউরে উঠতে হয়! সম্প্রতি হুগলি জেলার বিভিন্ন মিষ্টির দোকান এবং বেকারিতে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের আকস্মিক অভিযানে যা সামনে এসেছে, তা সত্যি ভাবিয়ে তোলার মতো। নোংরা ও চূড়ান্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তো বটেই, এমনকি মিষ্টির রঙ আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে সরাসরি দোলের কেমিক্যালযুক্ত লাল রং!

অভিযানে কী কী বেরিয়ে এল? ভদ্রেশ্বরের একটি নামী বেকারিতে হানা দিয়ে দেখা যায়, কোনো ধরনের খাদ্য সুরক্ষা-বিধি মানা হচ্ছে না। অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক, বিস্কুট ও পাউরুটি তৈরি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই বেকারিটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

অন্যদিকে, আরামবাগের একটি মিষ্টি তৈরির কারখানায় হানা দিয়ে তো হতবাক হয়ে যান আধিকারিকরা। মিষ্টির মধ্যে মেশানোর জন্য রাখা হয়েছে হোলি খেলার ক্ষতিকারক লাল রং! দোকানের এক কোণে মশলার পাশে আবার দিব্যি ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় বেড়ালকে। যদিও দোকানদারের দাবি, দোলের সময়ের বেঁচে যাওয়া ওই রং ভুলবশত ওখানে পড়ে ছিল এবং তা মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয় না, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *