রেস্তোরাঁর ফ্রিজে ৫০০ কেজি বাসি মাংস ও চিংড়ি! ট্যাংরার নামী হোটেলে পুরসভার হানা দিতেই চক্ষু চড়কগাছ

হোটেল-রেস্তোরাঁয় লোভনীয় খাবার খাওয়ার আগে একটু সাবধান! কারণ আপনার প্লেটে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা আদতে সুস্বাদু না কি মারাত্মক বিষ, তা হয়তো আপনার ধারণার বাইরে। সম্প্রতি কলকাতার ট্যাংরার চায়না টাউনের একটি নামী রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল কলকাতা পুরসভা। রেস্তোরাঁর ডিপ ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫০০ কেজি বাসি মুরগির মাংস এবং চিংড়ি মাছ!

পুরসভার আকস্মিক হানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য: খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ দফতর, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আধিকারিকরা যৌথভাবে ট্যাংরার ওই বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান। রেস্তোরাঁর ফ্রিজ খুলতেই আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠে। প্যাকেটে করে ডিপ ফ্রিজে জমিয়ে রাখা ওই বিপুল পরিমাণ মাংস ও চিংড়ি মাছ ঠিক কতদিন আগের, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি রেস্তোরাঁর কর্মীরা। এর পরই সমস্ত বাসি খাবার বাজেয়াপ্ত করে প্রগতি ময়দান থানায় নিয়ে আসা হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও রেকর্ডিং করে ওই পচাগলা মাংস ও মাছ ধাপার মাঠে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করা হবে।

পোড়া তেলের যথেচ্ছ ব্যবহার: শুধু বাসি খাবার মজুত করাই নয়, ওই নামী রেস্তোরাঁয় গ্রাহকদের রান্নার জন্য দিনের পর দিন পোড়া বা ব্যবহৃত তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন পুর আধিকারিকরা। এর জেরে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

একই দিনে সোদপুরের একটি রেস্তোরাঁর রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং বাইপাসের ধারের দুটি পাঁচতারা হোটেলেও মান যাচাইয়ে অভিযান চালিয়েছে পুরসভা। তবে ট্যাংরার এই ঘটনায় খাবার দাবারের মান নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *