এক হাতে দেশের চারটে সোনা, অন্য হাতে সবজির পাল্লা! আন্তর্জাতিক থ্রোবল খেলোয়াড়ের দুরবস্থা দেখে কেঁপে উঠবে বুক

ক হাতে দেশের জন্য জেতা চারটি আন্তর্জাতিক গোল্ড মেডেল আর অন্য হাতে সবজি মাপার দাঁড়িপাল্লা! দেশের জার্সিতে একের পর এক গৌরব অর্জন করলেও চরম আর্থিক অনটনের জেরে আজ এভাবেই দিন কাটাতে হচ্ছে ভারতের আন্তর্জাতিক থ্রোবল খেলোয়াড় অমরদীপ কুমারকে। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে উঠে আসা এই অ্যাথলেটের করুণ কাহিনী এখন গোটা দেশের ক্রীড়ামহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
চারটি আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকের মালিক অমরদীপ: রাঁচির আরগোরার নিবাসী অমরদীপ ২০১০ সাল থেকে থ্রোবল খেলা শুরু করেন। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজের জায়গা পাকা করে নেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রথম গোল্ড মেডেল জেতেন।
এরপর তাঁর সাফল্যের ঝুলি শুধু সমৃদ্ধই হয়েছে:
-
২০১৭: নেপালের কাঠমান্ডুতে ইন্দো-নেপাল থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় গোল্ড মেডেল।
-
২০১৯: বেঙ্গালুরুতে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণজয়।
-
২০২৬: সাম্প্রতিক দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও দেশের জন্য আরও একটি সোনা জিতে নেন তিনি।
অভাবের তাড়নায় ট্যাক্সি চালানো ও সবজি বিক্রি: দেশের হয়ে এত বড় বড় সাফল্য এলেও ভাগ্যের চাকা একচুলও ঘোরেনি অমরদীপের। পরিবার চালানোর মতো ন্যূনতম আর্থিক সংগতি না থাকায় তাঁকে বাধ্য হয়ে সকাল-সন্ধ্যা রাস্তার ধারে সবজি বিক্রি করতে হয় এবং দিনের বেলা পেটের টানে চালাতে হয় ক্যাব বা ব্যক্তিগত ট্যাক্সি। অমরদীপের অভিযোগ, থ্রোবল খেলাটি অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে সরকারি তরফ থেকে সেভাবে কোনো স্থায়ী চাকরি বা আর্থিক সাহায্য মেলেনি।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নতুন আশার আলো: সোশ্যাল মিডিয়ায় অমরদীপের এই সংগ্রামের ছবি ও খবর ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বিষয়টির ওপর দ্রুত নজর দিয়ে ক্রীড়াদপ্তরকে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন অমরদীপ ও তাঁর পরিবার। দেশের এই কৃতি সন্তানের দাবি, সরকার যদি একটি স্থায়ী চাকরি এবং সামান্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তবে সবজি বিক্রির চিন্তা ছেড়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে দেশের জন্য আরও পদক এনে দেওয়ার খেলায় মন দিতে পারবেন।