করোনা গেল তো কী হয়েছে! হু হু করে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, ফের মাস্ক পরার হিড়িক পড়তেই মনে যে প্রশ্ন আসছে

কোভিডের আতঙ্ক কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের একবার কামড় বসাচ্ছে H1N1 ভাইরাস, যা মূলত ‘সোয়াইন ফ্লু’ নামে পরিচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রোগের সংক্রমণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোভিডের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে মানুষকে আবারও বাধ্য হয়ে মাস্ক পরতে হচ্ছে। আর এই ক্রমবর্ধমান প্রকোপের মাঝেই সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। সোয়াইন ফ্লু কি কোভিডের মতোই মারাত্মক? একজন মানুষ কি একই সময়ে এই দুই ভাইরাসেরই শিকার হতে পারেন?

একই সময়ে কি সোয়াইন ফ্লু ও কোভিড হতে পারে?
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে সোয়াইন ফ্লু এবং কোভিড-১৯—উভয় রোগেই আক্রান্ত হওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব। উল্লেখ্য, সোয়াইন ফ্লু ছড়ায় ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ (Influenza A) ভাইরাসের কারণে, আর কোভিড-১৯ ছড়ায় ‘সার্স-কোভ-2’ (SARS-CoV-2) ভাইরাসের মাধ্যমে। এই দুই রোগই মূলত বাতাসের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির সময় নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। চিকিৎসা পরিভাষায় একসঙ্গে এই দুই ভাইরাসের আক্রমণকে ‘কো-ইনফেকশন’ (Co-infection) বলা হয়ে থাকে।

একই রকম লক্ষণ, বাড়ছে বিভ্রান্তি
এই দুই সংক্রমণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এদের প্রাথমিক লক্ষণগুলি প্রায় এক এবং অভিন্ন। ফলে রোগী নিজে বুঝতে পারেন না যে তিনি সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত, নাকি কোভিডের শিকার, কিংবা দুটোই একসাথে রয়েছে কি না। সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

তীব্র জ্বর ও কাশি

গলা ব্যথা ও ক্লান্তি

মাথাব্যথা ও সারা শরীরে প্রবল ব্যথা

শ্বাসকষ্ট

কারা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
সংক্রমণের ঝুঁকি যেকোনো বয়সের মানুষেরই থাকতে পারে। তবে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের আগে থেকেই কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা বা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের দুর্বলতা রয়েছে এমন মানুষেরা একসঙ্গে একাধিক সংক্রমণের শিকার হয়ে মারাত্মক বিপদে পড়তে পারেন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
সর্দি, কাশি বা ফ্লু-র মতো সামান্য লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা করা চলবে না। বিশেষ করে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সময়ে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি বিচার করে ডাক্তাররা সাধারণত সোয়াইন ফ্লু এবং কোভিড উভয় পরীক্ষারই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

সুরক্ষার জন্য কী কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

চিকিৎসকের পরামর্শমতো ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং কোভিড-১৯—উভয় টিকাই সময়মতো নিয়ে নিন।

সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিষ্কার রাখুন।

ঘরবাড়ি ও বন্ধ ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।

অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন।

জনবহুল বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

বিশেষ করে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, তীব্র কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা মানসিক বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *