১৫ বছর পর জন্মাষ্টমীতে বিরল যোগ! কাকতালীয় এই ক্ষণে কোন সৌভাগ্য অপেক্ষা করছে আপনার জন্য?

আসন্ন শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীকে ঘিরে ধর্মীয় মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এ বছরের জন্মাষ্টমীতে এক অত্যন্ত বিরল জ্যোতিষীয় সংযোগ তৈরি হতে চলেছে। দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমীর মধ্যরাতে রোহিণী নক্ষত্র এবং বৃষ রাশিতে যেভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল, ২০২৬ সালের জন্মাষ্টমীতেও হুবহু একই ধরনের অলৌকিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দিনটির তাৎপর্য বহু গুণে বেড়ে গেছে।
জয়পুর-যোধপুরের পাল বালাজি অ্যাস্ট্রোলজি ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ও প্রখ্যাত জ্যোতিষী ড. অনীশ ব্যাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পঞ্জিকা মতে ২০২৬ সালে মূল জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত হবে ৪ সেপ্টেম্বর। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে অষ্টমী তিথি শুরু হয়ে শেষ হবে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে। অন্যদিকে, ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত রোহিণী নক্ষত্রের প্রভাব থাকবে। এর ফলে ৩ সেপ্টেম্বর রাত পেরিয়ে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে অষ্টমী তিথি ও রোহিণী নক্ষত্রের এক অপূর্ব মিলন ঘটতে চলেছে, যা নিশীথকালের পূজার জন্য অত্যন্ত শুভ।
জ্যোতিষশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চন্দ্রের বৃষ রাশিতে অবস্থান নতুন নয়। কিন্তু মধ্যরাতে একই সঙ্গে রোহিণী নক্ষত্রের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে ব্রত পালন এবং শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করলে বহু জন্মের পাপ থেকে মুক্তি এবং বিপুল পুণ্য লাভ করা সম্ভব।
অবশ্য এগুলি সবই ধর্মীয় বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তা সত্ত্বেও লাড্ডু গোপালকে সন্তুষ্ট করতে ভক্তদের মধ্যে নৈবেদ্য নিবেদনের উৎসাহে কোনো ঘাটতি নেই। জন্মাষ্টমীতে ভগবানকে মাখন-মিছরি ছাড়াও জাফরান, পেড়া, ক্ষীর, রাবড়ি, মোহনভোগ, রসগোল্লা এবং পঞ্চমেভা লাড্ডু নিবেদন করার প্রাচীন রীতি রয়েছে। ব্রত পালনের নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তমীর দিন থেকেই সাত্ত্বিক আহার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অষ্টমীর দিনে সকালে স্নান সেরে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে জল, চাল, ফুল ও ফল নিয়ে উপবাসের সংকল্প নিতে হয়। এছাড়া দুপুরে কালো তিল মেশানো জল ছিটিয়ে দেবকীর প্রতীকী ‘সূতি গৃহ’ প্রস্তুত করে সেখানে মঙ্গল কলস স্থাপনপূর্বক দেবকী, বাসুদেব, বলদেব, নন্দ, যশোদা ও মা লক্ষ্মীকে স্মরণ করে পুজো সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।