স্কুলের তিন তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর! বিরিয়ানি বিতর্ক নাকি শিক্ষকের শাস্তি— আসল রহস্য কোথায়?

হরিয়ানার ফরিদাবাদে একটি স্কুলের তিন তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ডাবুয়া-গাজিপুর রোডের নবোদয় বিদ্যা নিকেতন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের এই ঘটনায় মৃত ছাত্রীর নাম জানভি (১৬)। তিনি ডাবুয়ারই বাসিন্দা ছিলেন। এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘিরে শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর মানসিক হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার স্কুলের তৃতীয় তলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় জানভিকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বিকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডাবুয়া থানার পুলিশ। স্কুল চত্বর পরিদর্শনের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছাত্রীটি কীভাবে তিন তলায় পৌঁছাল এবং ঘটনার নেপথ্য কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাবার গুরুতর অভিযোগ
মৃত ছাত্রীর বাবা প্রমোদ কুমার স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ক্লাসে ছাত্রীদের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়া নিয়ে একটি বিবাদ বেধেছিল। সেই ঝগড়ায় মেয়ের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। প্রমোদ কুমারের অভিযোগ, ওই শিক্ষক জানভিকে প্রায় চার ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন। এই চরম অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তাঁর মেয়ে বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন বাবা।

কী বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ?
যদিও ছাত্রীর পরিবারের আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন স্কুলের অধ্যক্ষ আর কে শর্মা। তাঁর দাবি, জানভিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়নি এবং পরিবারের অভিযোগের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেড়ায়নি। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল জানভি। এরপর সে সোজা তিন তলায় গিয়ে নিচে লাফ দেয়। তবে এই চরম পদক্ষেপের আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *