চকোলেটের মতো নিখুঁত চৌকো মলত্যাগ করে পৃথিবীর একমাত্র এই প্রাণী! চেনেন তাকে?

প্রকৃতি তার প্রতিটি জীবকে একেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়ে সাজিয়েছে। কেউ আকাশে ওড়ে, কেউ জলে সাঁতার কাটে, আবার কেউ সুড়ঙ্গ খুঁড়ে মাটির তলায় বাস করে। কিন্তু এমন একটি প্রাণীও এই পৃথিবীতে রয়েছে, যার মলত্যাগের এক অদ্ভুত অভ্যাস দেখে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মাথা ঘুরে গিয়েছিল! অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটির নাম ‘উম্ব্যাট’ (Wombat)। দেখতে ভালুক বা ব্যাজারের মতো হলেও, এই প্রাণীটিই পৃথিবীর একমাত্র জীব যার মল সম্পূর্ণ চৌকো আকারের হয়!
কীভাবে তৈরি হয় এই চৌকো মল? গোল, লম্বা বা অন্য কোনও সাধারণ আকারের মতো নয়— ছক্কার কিউবের মতো একেবারে নিখুঁত চৌকো মলত্যাগ করে উম্ব্যাট। নিশাচর স্বভাবের এই প্রাণীটি দিনের বেলা দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা মাটির নিচের গর্তে ঘুমিয়ে কাটায়। ঘাস, শিকড় ও গাছের ছাল খেয়ে বেঁচে থাকা এই তৃণভোজী প্রাণীটির অন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্র প্রায় ৯ থেকে ১০ মিটার লম্বা, যা তাদের শরীরের দৈর্ঘ্যের প্রায় ১০ গুণ! আর এই দীর্ঘ অন্ত্রই জল পুরোপুরি শোষণ করে বিষ্ঠাকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তোলে।
এতদিন মানুষের ধারণা ছিল, বুঝি উম্ব্যাটের মলদ্বারটিই চৌকো! কিন্তু সিটি স্ক্যান ও ময়না তদন্তে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, তাদের মলদ্বার সম্পূর্ণ গোল। অর্থাৎ রাস্তা গোল হলেও সেখান থেকেই চৌকো আকারের মল নিখুঁতভাবে বেরিয়ে আসে! জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিজ্ঞানী প্যাট্রিসিয়া ইয়াং এবং ডেভিড হু-এর নেতৃত্বে এক গবেষক দল এই রহস্য ফাঁস করেছেন।
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: গবেষণায় দেখা গেছে, উম্ব্যাটের অন্ত্রের শেষের ১৭ শতাংশ অংশে এসে মল চৌকো আকার ধারণ করে। তাদের অন্ত্রের কিছু অংশ বেশ নমনীয় এবং কিছু অংশ বেশ শক্ত। শক্ত অংশগুলো দ্রুত সংকুচিত হয় আর নরম অংশগুলো আস্তে আস্তে সংকুচিত হয়। এই অসম চাপের ফলেই মল ধীরে ধীরে আয়তক্ষেত্রাকার ও পরে নিখুঁত চৌকো রূপ নেয়। হাজার হাজার বার সংকোচনের পর তৈরি হওয়া এই চৌকো মল দিয়েই উম্ব্যাট সাধারণত তার সীমানা নির্ধারণ করে বা এলাকা চিহ্নিত করে। সবমিলিয়ে বিজ্ঞানের চিরন্তন ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে প্রকৃতির এই অদ্ভুত বিস্ময় আজও গবেষকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে!