চিনির বাজারে মোদী সরকারের বড় মেগা স্ট্রাইক! স্টক লিমিট অর্ধেক হতেই কপালে হাত পড়ল কালোবাজারিদের

দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং চিনির কৃত্রিম সংকট বা কালোবাজারি রুখতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। চিনি ব্যবসায়ীদের জন্য স্টক রাখার সীমা এক ধাক্কায় অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি এবং অতিরিক্ত মুনাফা লোটার প্রবণতায় বড়সড় লাগাম পরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী পরিবর্তন আসছে স্টকের নিয়মে? consumer affairs, food and public distribution মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে চিনি ডিলাররা একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২,০০০ কুইন্টাল চিনি নিজেদের গুদামে বা স্টকে রাখতে পারবেন। এর আগে এই সীমা নির্ধারিত ছিল ৪,০০০ কুইন্টাল। নতুন এই কঠোর নিয়মটি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি, নতুন নিয়মে এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ব্যবসায়ীরা কোনো অবস্থাতেই তাদের স্টকে থাকা চিনি ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে ফেলে রাখতে পারবেন না। অর্থাৎ, স্টক পাওয়ার এক মাসের মধ্যে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বাজারে ছাড়তে হবে।

কলকাতা অঞ্চলের জন্য বিশেষ ছাড়: পুরো দেশের জন্য স্টক লিমিট কমানো হলেও, কলকাতার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র থেকে আসা চিনি মূলত এই অঞ্চলের মাধ্যমেই পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সরবরাহ করা হয়। তাই সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কলকাতার আশপাশের মেট্রোপলিটন এলাকায় আগের মতোই সর্বোচ্চ ৪,০০০ কুইন্টাল পর্যন্ত চিনি মজুত রাখার অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে।

দামে কি মিলবে স্বস্তি? এর আগে গত ১ আগস্ট সরকার স্টক লিমিট ৪,০০০ কুইন্টাল নির্ধারণ করেছিল, যা এখন আরও কমিয়ে ২,০০০ কুইন্টাল করা হলো। সরকারের এই কড়া নজরদারি ও ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের জেরে ইতিমধ্যে চিনির দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মিল গেটে চিনির দাম (এক্স-মিল প্রাইস) প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যার সুফল সাধারণ খুচরা বাজারেও মিলতে শুরু করেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রুখতে ডিলারদের এখন নিয়মিতভাবে ফুড ডিপার্টমেন্টের অনলাইন পোর্টালে তাদের স্টকের সঠিক পরিমাণ আপডেট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *