পেট ভরে খাওয়ার পরেও কি বারবার খিদে পায়? মারাত্মক কোনো রোগ বাসা বাঁধছে না তো শরীরে?

অনেকেই প্রায়শই একটি অদ্ভুত সমস্যার মুখোমুখি হন— পেটপুরে ভরপেট খাবার খাওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই আবার যেন কেমন খিদে খিদে পায়। মনে হয় সারাদিনই কিছু না কিছু পেটে চালান করতে হবে! এই সমস্যাটিকে অনেকে নিছক সাধারণ খিদে ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, ঘুম না হওয়া, মানসিক চাপ কিংবা শরীরের অন্দরে চলা নানাবিধ পরিবর্তন।
কেন পেট ভরার পরেও খিদে পায়? কানপুরের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সাদ আনোয়ারের মতে, এর পেছনে প্রধানত কয়েকটি কারণ দায়ী:
-
খাবারে পুষ্টির অভাব: রোজকার ডায়েটে যদি প্রোটিন এবং ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে, তবে পেট খুব দ্রুত খালি হয়ে যায়। শুধু ভাত, রুটি বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলেও পেট সাময়িকভাবে ভরলেও দীর্ঘক্ষণ তা তৃপ্তি দিতে পারে না। এর বদলে ডাল, পনির, ডিম, দুন, তাজা ফল এবং শাকসবজি খাওয়া জরুরি।
-
জলের ঘাটতি: অনেক সময় শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকলে বা জল কম খেলেও মানুষ সেটাকে খিদে হিসেবে ভুল করে। তাই খাওয়ার পরেও কিছু খেতে ইচ্ছে করলে প্রথমে এক গ্লাস জল খেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
-
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব: কম ঘুমালে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যায়, যা খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনকে প্রভাবিত করে। ফলে মিষ্টি বা বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হু হু করে বেড়ে যায়।
-
ইমোশনাল ইটিং বা মানসিক চাপ: অতিরিক্ত টেনশন, উদ্বেগ বা একঘেয়েমির কারণে অনেক সময় মানসিক তৃপ্তির জন্য মানুষ বারবার খেতে শুরু করে। একেই বলে ‘ইমোশনাল ইটিং’।
-
খাবার দ্রুত খাওয়া: ব্রেন পর্যন্ত পেট ভরার সিগন্যাল পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু কেউ যদি খুব দ্রুত গোগ্রাসে খাবার খান, তবে পেট ভরে গেলেও মস্তিষ্ক তার তৃপ্তির বার্তা সময়মতো পায় না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি? যদি এমন হয় যে পেট ভরে খাওয়ার পরও অতিরিক্ত খিদে পাওয়ার পাশাপাশি আপনার ওজন খুব দ্রুত কমতে বা বাড়তে শুরু করেছে, কিংবা অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া, বারবার প্রস্রাব হওয়া বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে— তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এমন হতে পারে। তাই জীবনযাত্রায় একটু সচেতনতা এবং সুষম আহারই পারে এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে।