ফ্রেমে উত্তম কুমার থাকলে আর কারও দিকে চোখ যেত না! মহানায়ককে নিয়ে কী এমন অজানা গল্প ফাঁস করলেন সন্দীপ রায়?

উত্তম কুমার— নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক জাদুকরি ব্যক্তিত্ব আর বাঙালি আবেগের এক সোনালী অধ্যায়। তবে শুধু রূপালি পর্দার ম্যাজিকই নয়, মহানায়কের ব্যক্তিজীবন ও শুটিং সেটের বহু অজানা স্মৃতি আজও সমানভাবে রহস্যময় ও আকর্ষক। সম্প্রতি সত্যজিৎ রায় পুত্র তথা প্রখ্যাত পরিচালক সন্দীপ রায় এক সাক্ষাৎকারে মহানায়ক উত্তম কুমারকে নিয়ে এমন কিছু অজানা গল্প শেয়ার করেছেন, যা ভক্তদের নস্টালজিয়ায় ভাসাতে বাধ্য।
কেন একশো বছর পরেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী উত্তম কুমার? সন্দীপ রায়ের মতে, উত্তম কুমারের মধ্যে এমন এক অদ্ভুত ক্যারিশমা ছিল যার তুলনা মেলা ভার। তবে শুধু দুর্দান্ত অভিনয়ই নয়, নিজের ‘স্টার ইমেজ’ খুব সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। খুব বেশি জনসমক্ষে বা অনুষ্ঠানে আসতেন না বলেই সাধারণ মানুষের মনে তাঁকে নিয়ে এক আলাদা কৌতূহল ও দূরত্ব বজায় থাকত। পর্দায় তাঁকে দেখার জন্য এই দীর্ঘ প্রতীক্ষাই ছিল ওঁর স্টারডমের অন্যতম মূল চাবিকাঠি।
‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির নেপথ্য কাহিনী: আজ ‘নায়ক’ ছবিটিকে ক্লাসিক হিসেবে মানা হলেও, এর শুটিংয়ের শুরুর পরিস্থিতি বেশ জটিল ছিল। সত্যজিৎ রায় যখন উত্তমবাবুকে একেবারে মেকআপহীন অবস্থায় দেখাতে চাইলেন, তখন সম্প্রতি চিকেন পক্স থেকে সেরে ওঠা উত্তম কুমার নিজের সামান্য দাগ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু সত্যজিৎ বাবু তাঁকে একদিনের প্রসেস করা ফুটেজ দেখিয়ে আশ্বস্ত করার পর শুটিংয়ের সেই কেমিস্ট্রি ইতিহাস হয়ে যায়। পরিচালক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ‘নায়ক’ বা ‘চিড়িয়াখানা’র মতো চরিত্রগুলো একেবারে উত্তমবাবুকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল, যেখানে অন্য কাউকে ভাবার প্রশ্নই ছিল না।
মেকআপ রুমের বাইরে এক মাটির মানুষ: সুপারস্টার সুলভ কোনো অহংকার বা ট্যানট্রাম মহানায়কের মধ্যে লেশমাত্র ছিল না। সেটের সাধারণ চা বিক্রেতা থেকে শুরু করে জুনিয়র টেকনিশিয়ান— সকলের সঙ্গেই সমান ভদ্রতা ও সম্মান দিয়ে মিশতেন তিনি। সত্যজিৎ রায় একবার স্মরণসভায় অত্যন্ত আবেগঘন হয়ে বলেছিলেন, ‘অনেকের সঙ্গেই কাজ করে আনন্দ পেয়েছি, কিন্তু ওঁর মতো আর কেউ হবে না।’ উত্তম কুমারের সেই দুর্দান্ত অভিনয় প্রতিভা, নিখুঁত স্ক্রিপ্ট সেন্স এবং ফ্রেমে তাঁর একচ্ছত্র উপস্থিতি বাংলা সিনেমাকে চিরকালের মতো সমৃদ্ধ করে রেখে গেছে।