ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গঙ্গা! জলস্তর বিপদসীমা ছুঁতেই তলিয়ে গেল ৭টি বাড়ি, চরম আতঙ্কে নদীপারের মানুষ

উত্তর ভারত ও পাহাড়ি অঞ্চলের অবিরাম বৃষ্টি এবং বরফ গলা জলের তোড়ে ফের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে গঙ্গা নদী। রাজ্য সেচ দফতরের পোর্টাল অনুযায়ী, মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৫.৩০ মিটারে পৌঁছে যাওয়ায় এলাকায় ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গঙ্গার এই জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মালদার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।
মুহূর্তে তলিয়ে গেল ঘরবাড়ি: পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের পারদেওনাপুর শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাপ মণ্ডল পাড়ায়। সেখানে গঙ্গার তীব্র ভাঙনে ইতিমধ্যেই একসঙ্গে ৭টি বসতবাড়ি নদীর গর্ভে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। খবর পেয়েই দ্রুত দুর্গত এলাকায় ছুটে যান স্থানীয় বিধায়ক রাজু কর্মকার ও বিডিও বাপি হালদার। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা শুরু করেছে প্রশাসন।
বিধায়ক ও প্রশাসনের পরিদর্শন: এদিকে মানিকচকের গোপালপুর এবং ইংরেজবাজারের খাসকোল এলাকায় গঙ্গার ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল, সেচ দফতরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শুভঙ্কর গুড়িয়া এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার। খাসকোল এলাকাতেই প্রায় ৪৮টি দুস্থ পরিবার নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে খাসকোল হাইস্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে শুকনো খাবার, মশারি ও ত্রাণের কিট তুলে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চানন্দপুর এলাকায় গঙ্গার ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে। সেচ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর জলস্তর বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েকদিনে তা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বালির বস্তা ফেলে সাময়িক প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও নদীপারের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।