‘প্রতিবাদে অংশগ্রহণ অপরাধ নয়!’ সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণের পরেই ২৮৭৩ জন বিক্ষোভকারীর এফআইআর প্রত্যাহার

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া ছাত্র-বিক্ষোভ এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এক বড়সড় আইনি স্বস্তির খবর সামনে এল। ‘কোনও প্রতিবাদে অংশগ্রহণ অপরাধ নয়’— সুপ্রিম কোর্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। আদালতের মধ্যস্থতা এবং কেন্দ্রের আশ্বাসের পর অবশেষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ডাকা দিল্লির সেই বিতর্কিত প্রতিবাদ মিছিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও কেন্দ্রের পদক্ষেপ: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচী ও ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, জুলাই মাসের ছাত্র-বিক্ষোভের জেরে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ইতিমধ্য়েই শুরু করেছে সরকার। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, গুরুতর অপরাধমূলক বা হিংসাত্মক কার্যকলাপে যুক্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রূপরেখাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সিজেপির সিদ্ধান্ত ও নাড্ডার প্রতিক্রিয়া: সুপ্রিম কোর্টে মামলার ইতিবাচক মোড় নেওয়ার পরই CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস আদালতে জানান, কেন্দ্রের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং আদালতের আইনি স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ৫ সেপ্টেম্বরের সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, শিক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত CJP-র দাবিগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে অহেতুক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এই আইনি পদক্ষেপে আপাতত দেশজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা কেটে গেল।