মমতার পরিবারে চরম বিষাদ! ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়াতেই আত্মঘাতী ভাগ্নি?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারে নেমে এল এক গভীর শোকের ছায়া। রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে নিজ বাড়ির দোতলার বারান্দা থেকে উদ্ধার হয়েছে মমতার চাচাতো ভাই নিহার মুখার্জীর কন্যা বৃষ্টি মুখার্জির (যিনি বর্ষা নাম পরিচিত) ঝুলন্ত মরদেহ। পরিবারের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। গত চার-পাঁচ বছর ধরে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছিল বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে রামপুরহাটের বাড়িতে কাপড়ের ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার কথা ভাবলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত বৃষ্টির পিত্রালয় রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে। তাঁর বাবা নিহার মুখার্জি রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্থানীয় একটি স্কুলেই গ্রুপ ‘সি’ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বৃষ্টি। তবে সাম্প্রতিককালে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তীব্র ঝড় বয়ে গিয়েছিল।

শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির নজরে পড়েছিলেন বৃষ্টি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই দুর্নীতি মামলায় প্রায় ৯০ শতাংশ ওএমআর শিট জাল প্রমাণিত হয়েছিল, যে তালিকায় নাম ছিল বৃষ্টিরও। দুর্নীতির জেরে তিনি তাঁর সরকারি চাকরি হারিয়েছিলেন। পেশাগত এই বিপর্যয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা তাঁর মানসিক চাপকে বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে খবর। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানসিক অবসাদ শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *