একদিকে মোদীর সঙ্গে গোপন বৈঠক, অন্যদিকে পাকিস্তানের পিঠে হাত! পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে কোন নতুন চাল চালছে ইরান?

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিম এশীয় কূটনীতিতে বড় মোড় এসেছে। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বর্তমান সংঘাতের আবহে যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে ভারতের কাছে বিশেষ ভূমিকা পালনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি।

বৈঠকে ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লি যেন তাদের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে রক্তপাত থেকে সরিয়ে সংলাপের টেবিলে ফিরিয়ে আনে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কমপ্লেক্স ও আমেরিকার নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের আর্থিক ফায়দা তোলার জন্যই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভ্রূকুটি উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সমস্ত সংকটের সমাধান একমাত্র কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। শুধু তাই নয়, আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ভারতের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, এই বৈঠকের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। সেখানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া ‘মক্কা চুক্তি’ এবং মুসলিম বিশ্বের সংহতির প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি, পাক প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক ভূমিকার তারিফ করলেও তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগে অন্য পক্ষকেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। যুদ্ধদীর্ণ পশ্চিম এশিয়ায় একদিকে আমেরিকার ওপর চাপ তৈরি করতে ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করা এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *