নামী রোগের চিকিৎসায় ৫২ কোটি টাকা খরচ! পঞ্জাবের এই সরকারি স্বাস্থ্য যোজনার পরিসংখ্যান জানলে চোখ কপালে উঠবে

পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সেহত যোজনার (Mukh Mantri Sehat Yojana) অধীনে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেপ্সिस এবং সেप्टিক শকে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় রেকর্ড ১২,৪৬৭টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় রাজ্যজুড়ে মোট ৫১.৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার মধ্যে সিভিয়ার সেপ্সিসের ১০,৯৬১টি উপশমে ৪৪.৩৩ কোটি টাকা এবং সেপটিক শকের ১,৫০৬টি চিকিৎসায় ৭.২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই পরিসংখ্যান শুধু এই রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত তীব্র শারীরিক জটিলতাই নয়, বরং এর পেছনে থাকা বিপুল আর্থিক বোঝা ও ঝুঁকির দিকটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সেপ্সিস আসলে কী এবং কেন এটি মারাত্মক?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্সিস হলো কোনো সাধারণ সংক্রমণ নয়, বরং সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি অত্যন্ত তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া। এর ফলে দ্রুত শরীরের টিস্যু বা কলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং এক বা একাধিক অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফুসফুস, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট বা মূত্রনালী, ত্বক এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের যেকোনো সাধারণ সংক্রমণ থেকেই সেপ্সিস ট্রিগার হতে পারে।
রোগের তীব্রতা বাড়লে রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে রোগী সেপটিক শকের মতো বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যান। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ড. বলবীর সিং সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, সময়মতো এই রোগ শনাক্ত না করলে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিতে পারে। সেপটিক শকে আক্রান্ত রোগীদের আইসিইউ বা গভীর চিকিৎসাসেবা, ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড, অ্যান্টিবায়োটিক, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ এবং মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনের মতো জীবনদায়ী ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, যার খরচ বহন করা সাধারণ পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন।
নবজাতকদের জন্য বাড়তি বিপদ ও লক্ষণ
চিকিৎসকদের মতে, বড়দের পাশাপাশি এই রোগের ঝুঁকি নবজাতকদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি থাকে। ফরিদকোটের গুরু গোবিন্দ সিং মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শশী কান্ত ধীর জানান, নবজাতকদের আচরণে সামান্য পরিবর্তনও মারাত্মক বিপদের পূর্বভাস হতে পারে। বিশেষ করে কম ওজনের বা প্রিম্যাচিউর শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক অবস্থার অবনতি মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটে যেতে পারে।
বাচ্চা যদি দুধ খাওয়া কমিয়ে দেয়, অতিরিক্ত ঘুমায়, শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি। এছাড়া সিডিসি-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, বড়দের মধ্যেও যদি অতিরিক্ত বিভ্রান্তি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড ব্যথা, জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া এবং দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসাগত সাহায্য নেওয়া আবশ্যক।
ক্যাশলেস সুরক্ষায় বড় ভরসা সেহত যোজনা
রোগের এই বিপুল খরচের ধাক্কা সামলাতে পঞ্জাবের ‘মুখ্যমন্ত্রী সেহত যোজনা’ গরিব ও যোগ্য পরিবারগুলির জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে প্রতি বছর ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস স্বাস্থ্য কভার দেওয়া হয়, যা আকস্মিক ও ব্যয়বহুল চিকিৎসায় বড় ধরনের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপ্সিসের মতো রোগের ক্ষেত্রে সামান্য দেরিও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই একদিকে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং অন্যদিকে এই ধরনের সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুরক্ষা—উভয় মিলেই বহু রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে।