প্রতিদিন স্কুলে যেতে জীবনের বাজি! ২০ ফুট উঁচু লোহার মই বেয়ে নদী পার হয় খুদেরা, ছত্তিশগড়ের এই ছবি দেখলে শিউরে উঠবেন

শিক্ষাকে প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হলেও, ছত্তিশগড়ের গরিয়াবন্দ জেলার মইনপুর আদিবাসী উন্নয়ন ব্লকের শিশুরা প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছানোর জন্য আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাজি রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তহসিল সদর মইনপুর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে দেহরগুড়া এবং খাম্বাথা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যবর্তী পৈরি নদীর উপর এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক চিত্র সামনে এসেছে। এখানে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য প্রায় ২০ ফুট উঁচু স্তম্ভের উপর বসানো একটি সরু লোহার মই বেয়ে ওঠানামা করতে হয়, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে ওত পেতে থাকে মৃত্যু।
পৈরি নদীর উপর প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর নির্মাণকাজ গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে কচ্ছপের গতিতে ঝুলে রয়েছে। নদীর উপর অসম্পূর্ণ এই সেতু পারাপারের জন্য ঠিকাদার কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প বা নিরাপদ ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই পিঠে ভারী স্কুল ব্যাগ নিয়ে ওই মই বেয়ে যাতায়াত করছে কোমলমতি শিশুরা। সেতুর উপরিভাগ থেকে ধারালো লোহার রড বেরিয়ে থাকায় সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষার দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে, যা দেখে সবসময় বুক কাঁপে অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা জানিয়ে বহুবার প্রশাসন ও ঠিকাদারি সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছেন এলাকাবাসী। এমনকি এক বছর আগে খোদ স্থানীয় বিধায়ক জনক ধ্রুব এবং গরিয়াবন্দের তৎকালীন কালেক্টর ভগবান সিং উইকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দ্রুত কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারের ‘সবাই পড়ুক, সবাই বাড়ুক’ স্লোগান এই আদিবাসী অঞ্চলে পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এই অসম্পূর্ণ সেতুর কাজ শেষ না হলে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জাতীয় সড়ক ১৩০সি অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।