‘বাবা দাঁড়াও!’ কনভয় থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ছুঁয়েই কান্নায় ভেঙে পড়লেন বৃদ্ধা! তারপর যা ঘটল…

মেলেনি বার্ধক্য ভাতা। নিদারুণ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আর পেরে উঠছিলেন না। ভেবেছিলেন মমতার কাছে অভিযোগ জানাবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে আশ্বাস পেয়েই সব অভিযোগের ইতি! শুভেন্দু অধিকারীর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের ৬৮ বছরের বৃদ্ধা স্বপ্না দাস। মুখ্যমন্ত্রী দলের জেলা সভাপতিকে বৃদ্ধার সমস্ত কাগজপত্র তাঁর দফতরে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
একটি অনুষ্ঠান শেষ করে মঙ্গলবার সকালে যখন কনভয় যশোর রোডে উঠেছে, ঠিক তখনই বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীদের ভিড়ের জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃদ্ধা। কনভয় গতি বাড়ানোর আগেই ভিড়ের মধ্যে থেকে ‘বাবা দাঁড়াও, বাবা দাঁড়াও’ বলতে বলতে তিনি গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। তাঁর ডাক শুনে গাড়ি থামিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানলার কাচ নামতেই বৃদ্ধা গাড়ির কাছে পৌঁছে যান।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ‘মা’ সম্বোধন করে জানতে চান, তিনি কী বলতে চান। বৃদ্ধা জানান তিনি টাকা পান না। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনি বার্ধক্য ভাতার সমস্ত ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন। শুনে বৃদ্ধা আরও এগিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মাথা ছুঁয়ে আশীর্বাদ করেন। বলেন, “আমি টাকা পাই না-পাই, বাবা তোমাকে কাছে পেয়েছি, আমার মন জুড়িয়ে গিয়েছে।”
কাছে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি নেতার হাতে সমস্ত কাগজপত্র পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বৃদ্ধাকে আশ্বস্ত করেন। জানা গিয়েছে, ১২ বছর আগে স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন স্বপ্না দেবী। এমএ পাশ করেও অসুস্থ ছেলের কোনো চাকরি না থাকায় অনটনে দিন কাটছিল। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ওই বৃদ্ধা।