সমস্ত অনুমান উড়িয়ে দিয়ে জিডিপি-তে বিরাট লাফ! বিশ্বকে চমকে দিয়ে ভারতের অর্থনীতি এখন কোন উচ্চতায়?

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সমস্ত হিসাব-নিকাশ ও আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি গতিতে ছুটছে। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গিয়েছে যে, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদন, পরিষেবা এবং শক্তিশালী বিনিয়োগ ক্ষেত্রের দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদেই খনি ক্ষেত্রের দুর্বলতা ও কৃষিক্ষেত্রে তুলনামূলক কম বৃদ্ধির ধাক্কা সফলভাবে সামাল দিয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি।

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিল-জুনের এই বৃদ্ধির হার অর্থনীতিবিদদের সমস্ত পূর্বাভাসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) যেখানে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং রয়টার্সের করা ৫৮ জন অর্থনীতিবিদের সমীক্ষায় ৭.১ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্যম পূর্বাভাস মিলেছিল, সেখানে প্রকৃত পরিসংখ্যান সেই সমস্ত আন্দাজকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত বছর একই ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। যদিও বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৮.৬ শতাংশের তুলনায় এই হার কিছুটা কম, তবুও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির নিরিখে এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চড়া মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ঘিরে যখন চতুর্দিকে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, ঠিক সেই কঠিন সময়ে এই রিপোর্ট স্বস্তি এনে দিয়েছে। এই ধাক্কা ও সাপ্লাই চেইনের মারাত্মক বিপর্যয় সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী চাহিদাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি, সরকারের সুচিন্তিত মূলধনী ব্যয়, উৎপাদন বৃদ্ধি, নির্মাণ কাজ এবং জোরালো রফতানি ভারতের অর্থনীতির এই আকাশছোঁয়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

দেশের এই দুর্দান্ত অর্থনৈতিক সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব দেশবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পকেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “দেশবাসীকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশের বৃদ্ধির হার—দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। এই দেশের মানুষের সংকল্প এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতার জন্য আমি তাঁদের অভিনন্দন জানাই। এটি আমাদের সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।”

একইসঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব আজ সংঘাতে জর্জরিত, চারদিক থেকে যুদ্ধের খবর আসছে এবং গোটা বিশ্ব সঙ্কটে ঘেরা। ২০২০ সালের কোভিড পর্বের পর থেকে বিশ্বজুড়ে কোথাও স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। তা সত্ত্বেও ভারত যে গতিতে এগিয়ে চলেছে, তা দেশের শক্তিশালী ভিত্তিরই প্রমাণ।

এরপরই দেশের অভ্যন্তরের সমালোচকদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। নাম না করে নিশানা করে তিনি বলেন, “অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা হতাশার অতল গহ্বরে ডুবে আছেন, মিথ্যার প্রতিধ্বনি করছেন এবং চারদিকে হতাশা ছড়াচ্ছেন। এসব কিছুকে পেরিয়ে এবং সমস্ত বাধা কাটিয়ে দেশ ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার অর্জন করেছে। আমাদের এই গতি বজায় রাখতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী একে “অত্যন্ত কঠিন সাফল্য” হিসেবে বর্ণনা করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার বিকল্প কিছু নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *